পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ ও চাঁদা না দেয়ার জের

ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে পেটাল রাবি ছাত্রলীগ

পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ এবং চাঁদা না দেয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুল মনির বাবলাসহ দুই কর্মচারীকে পিটিয়ে জখম করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২ এর প্রকৌশল শাখা; উপাচার্যের দপ্তরের অভ্যর্থনা কক্ষ, প্রশাসনভবনের গেটে  পৃথকভাবে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। সিরাজুল মনির বাবলাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং দুই কর্মচারী সুমন ও কাশেমকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 
প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আগামী রবিবারের ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ছাত্রলীগের মহাসমাবেশের নামে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোহিদ আল তুহিনসহ একাধিক নেতাকর্মী ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। তিনি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে চাঁদার টাকা পরিশোধের আল্টিমেটাম দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর ত্যাগ করে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একজন  কর্মকর্তা জানান, আজ দুপুর ১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজলের দপ্তরে গিয়ে তাকে ছাত্রলীগের আল্টিমেটামের কথা জানান। 
এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী উপাচার্যকে জানানোর উদ্দেশে সাক্ষাৎ চেয়ে তার দপ্তরের অভ্যর্থনা কক্ষে অপক্ষা করছিলেন। এসময় সিরাজুল মনিরের মোবাইলে ফোন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিন। মোবাইল ফোনে তুহিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বরে গিয়ে দেখা করতে বলেন। কিন্তু  ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রয়োজন থাকলে তুহিনকে তার দপ্তরে যেতে বলেন। 
এদিকে ছাত্রলীগ নেতা তুহিন, সহ-সভাপতি তন্ময় আনন্দ অভি ও মামুন-অর-রশীদের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী প্রশাসন ভবন-২ এ অবস্থিত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে যান। কিন্তু সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে না পেয়ে তাঁর দপ্তরের কর্মচারী সুমনকে পিটিয়ে জখম করে ওই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর অবস্থান জানতে পেরে সেখানে গিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। উপাচার্যের দপ্তরের অভ্যর্থনা কক্ষে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য অতিথিদের সামনেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে মারধর করেন। এ
খবর পেয়ে নিজ দপ্তর থেকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় প্রশাসন ভবনের প্রধানগেট তালাবন্ধ দেখে গেটম্যান কাশেমকে মারধর করে ওই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তারা গেটের তালা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। 
ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং কর্মচারী কাশেমকে রাবি মেডিক্যাল সেন্টারে পাঠানো হয়। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুল মনির। 
 বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিন বলেন, ‘উপাচার্যের কার্যালয়ের অভ্যর্থনা কক্ষে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি (ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী) বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেন। তাই রাগ থামাতে না পেরে তাকে কয়েকটি থাপ্পর মারে আমার ছেলেরা।’ 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, আমার কার্যালয়ের অভ্যর্থনা কক্ষে একটি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীসহ অপর দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা যেই হোক, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।