মাওলানা ফারুকী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল চট্টগ্রাম

বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার প্রতিবাদ ও ক্ষোভে উত্তাল চট্টগ্রাম। বৃহস্পতিবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তার অনুসারীরা।
এসব সমাবেশ থেকে ফারুকী হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামকে দায়ী করে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাওলানা ফারুকী ইসলামের প্রকৃত সত্য ও উদার নীতির কথা তুলে ধরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় একটি গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এ গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশের কারণে নগরীর মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ষোলশহরসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। মুরাদপুর, কাজীর দেউড়ি মোড় ও আশকার দিঘীর পাড়সহ কয়েকটি স্থানে যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় সড়ক অবরোধের ফলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিলে যানচলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় মাওলানা ফারুকী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বলে সংবাদদাতারা জানিয়েছেন। নুরুল ইসলাম ফারুকীর ইন্তেকালে চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদীয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় শোক সভা মাওলানা মুহাম্মদ ছগীর ওসমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে মাওলানা ফারুকী হত্যার প্রতিবাদে সভা ও দোয়া মাহফিলসহ সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত। তবে হরতালের কোনো কর্মসূচী দেয়া হয়নি।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচী ঘোষণা করেন সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার। তিনি বলেন, প্রশাসন আন্তরিক হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনীদের গ্রেফতার করা সম্ভব।
সাত দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল, শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ, রবিবার বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল, ১ সেপ্টেম্বর সারা দেশের মসজিদ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে কুলখানি ও দোয়া মাহফিল, ২ সেপ্টেম্বর নগরীর লালদীঘি মাঠে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে খুনিরা গ্রেফতার না হলে ৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
ইসলামী ছাত্রসেনার ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম
ইসলামী ফ্রন্ট নেতা মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইসলামী ছাত্র সেনা। অন্যথায় হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দেন সংগঠনটির নেতারা।

এদিকে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেন, মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম। তার খুনের সাথে হেফাজতে ইসলামকে জড়িয়ে যে খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে তা সত্য নয়। তিনি অবিলম্বে মাওলানা ফারুকীর প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।