নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা

দেশে খুনের রাজত্ব কায়েম হয়েছে: খালেদা জিয়া

 
 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দুষ্কৃতকারীদের হাতে টেলিভিশন উপস্থাপক নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে— দেশে খুনের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলেই গুম, খুন ও অপহরণকারীরা ঘটনা ঘটিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। ফারুকীকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের বিরাজমান খুনোখুনি ও রক্তারক্তির বীভত্স চিত্রই ফুটে উঠেছে। টিভি উপস্থাপক ও ইসলামিক ফ্রন্ট নেতা নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা বলেন। বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং ক্ষমতাসীনদের হিংসাত্মক কার্যকলাপের কারণে বৃদ্ধি পাওয়া অপহরণ আর লাশের মিছিলের ভয়াবহ বাস্তবতায় দেশের আপামর জনসাধারণ সবসময় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকারের করাল গ্রাস থেকে শুধু রাজনৈতিক নেতা-কর্মীই নয়, দেশের সম্মানিত বিশিষ্টজনরাও রেহাই পাচ্ছেন না। দেশবাসী এমন একটা নৈরাজ্যকর থমথমে পরিবেশে বসবাস করছে, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন দ্বীনি আলেমকেও দুস্কৃতকারীদের হাতে জীবন হারাতে হয়।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, বর্তমান ‘অবৈধ’ সরকারের আমলে দেশের মানুষ আর নিরাপদ নয়। ‘অবৈধ’ সরকারের সৃষ্ট কুশাসন থেকে থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। সারা দেশে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যেই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রশ্রয় দিচ্ছে সন্ত্রাসী গডফাদার ও দুস্কৃতকারীদের, যাতে অরাজক ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিদ্যমান রেখে অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায়। কারণ অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে নৈরাজ্য ও দুঃশাসনের বিকল্প নেই। এই অবৈধ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জনগণ নেই। তাই অনাচার ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে সমাজবিরোধী সন্ত্রাসীরাই এখন তাদের সবচেয়ে বেশি ভরসার স্থল। আর এই জন্য আশকারা পেয়ে সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হওয়ার সাহস পাচ্ছে।
বিবৃতিতে ‘হত্যালীলা’ চালিয়ে দেশব্যাপী রক্তপাত ঘটানোর জন্য সরকারকে একদিন চরম ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন খালেদা জিয়া। তিনি মরহুম নূরুল ইসলাম ফারুকীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
ইঅ/চৌফে/শ৩০৫