গত আট মাস ধরে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে যা অর্থনীতির জন্য বেশ সন্তুষ্টির বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নানা মাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যে উন্নতি হয়েছে তা সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই। সরকার অর্থনৈতিক খাতে যেসব সংস্কার করেছে তার সুফল পেতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যে কোন মূল্যে ধরে রাখা হবে। যদিও একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্য দেশের এই স্থিতিশীল অবস্থা নষ্ট করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভণ্ডুল করতে নানা চক্রান্ত, গুম, খুন চালাচ্ছে। এসব মোকাবেলা করেই উন্নয়নের গতিকে অব্যাহত রাখা হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইকোনমিক রিসার্চ ইনষ্টিটিউট (এসএএনইআই) আয়োজিত ‘রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক ১৩ তম সম্মেলনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক টিএন শ্রীনিভাসনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্ট ড. মশিউর রহমান, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের উপ-পরিচালক অ্যানি সরিয়ট, বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ডেভলপমেন্ট ষ্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক মোস্তফা কে. মুজেরি। দুদিন ব্যাপী এ সম্মেলনে ৭টি সেমিনারে সদস্য দেশগুলোর গবেষকরা তাদের গবেষনা পত্র উপস্থাপন করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা অর্থনীতির নতুন ব্যবস্থাপনাতে অংশগ্রহণ করেছি। জাতীয় কল্যাণ সাধনে কিভাবে কাজ করা যায় তা নির্ধারণ করা একটি জটিল কাজ। একক ভাবে কোন দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কাজে পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের উপর জোর দিতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একক ভাবে কোন দেশ শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এক দেশে অশান্তি বিরাজ করলে তার প্রতিফলন প্রতিবেশী দেশের উপরও পড়ে। তাই পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের সমন্বয়ে এসএএনইআই ১৯৯৮ সালে গঠিত হয়েছে। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্থান এবং শ্রীলংকা। প্রতিষ্ঠানটির সদস্য সংখ্যা ৭৪। সদস্য দেশগুলোর পারষ্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করতেই এ গবেষনা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির সচিবালয় অবস্থিত।