এরশাদের উপস্থিতিতেই জাপার দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি

 
 
 
রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির (এ) দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ফটোসাংবাদিকসহ অন্তত ৫ প্রহূত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে নগরীর বর্ণালী মোড়ের ডেসটিনি মাঠ চত্বরে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এনিয়ে পার্টির নেতাকর্মীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বক্তব্য শুরু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এসময় পুলিশ বিবদমান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগর জাপার কাউন্সিল ঘিরে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন ও যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর মধ্যেই আহবায়ক সম্মেলনের প্রস্তুতি নেন। অন্যদিকে কাউন্সিল ভণ্ডুল করতে যুগ্ম-আবহায়ক ও তার অনুসারী ১১১ নেতাকর্মী গতকাল রবিবার পদত্যাগের ঘোষণা সম্বলিত প্রেসবিজ্ঞপ্তি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে পাঠান। এরপরও আজ সোমবার তারা যথাসময়ে সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত হন।
জেলা জাপার প্রচার সম্পাদক সরদার জুয়েল জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। কিন্তু মহানগর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দীন বক্তব্যের সময় বিএনপির এজেন্ডা অনুযায়ী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চেয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এ সময় পার্টির কিছু নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন। এরপর উপস্থাপক বক্তব্যের জন্য জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দীন বাচ্চুকে বক্তব্য দেয়ার আহবান জানান। কিন্তু বাচ্চু ডায়াসে এসে বক্তব্য শুরুর আগেই আগের বক্তা শাহাবুদ্দীনের গলা ধরে ধাক্কা দেন। এ সময় মঞ্চের অন্য নেতাকর্মীরাও শাহাবুদ্দীনকে মারপিট শুরু করলে দুই গ্রুপে হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতি থামলে বাচ্চু বক্তব্য শুরুর এক পর্যায়ে মঞ্চের চেয়ারে বসে পড়েন। এরপর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারো হাতাহাতি শুরু হয়। মঞ্চে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ছবি তোলার সময় ফটোসাংবাদিকদের স্বপন অনুসারী নেতাকর্মীরা মঞ্চ ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এতে প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক শহীদুল ইসলাম দুখুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এক পর্যায়ে এরশাদ নিজের আসন থেকে মাইকে এসে বক্তব্য দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসময় পুলিশ বিবদমান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই দুই দলকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা দেশের শান্তি চায়। কিন্তু এখন দেশের কোথাও শান্তি কোথাও নাই। চারিদিকে শুধু খুন, গুম, ঘুষ-দুর্নীতিতে ভরে গেছে। দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা এসব থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু মুক্তি পাবে কোথায়। মানুষকে মুক্তি দিতে হলে একমাত্র জাতীয় পার্টিই পারবে। কেবল জাতীয় পার্টির সরকারই দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে। আমরা দেশের জন্য কাজ করি।’
রাজশাহীর সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করার দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘আমিই রাজশাহীকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করেছি, মরুপ্রায় বপ্রন্দ্রভূমিকে সবুজ করতে বিএমডিএ (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) গঠন করেছি। রাজশাহীতে কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সদর দফতর রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠা করেছি।’ এরশাদ বলেন, দেশের মানুষ মনে করে, বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তারেক প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশে দ্বৈতশাসন শুরু হবে। তারেকের কথা শুনলে মানুষের রক্ত হিম হয়ে যায়। তারেক এলে দেশে ঘুষ, দুর্নীতি বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, বিএনপির ভবিষ্যত্ অন্ধকার। বিএনপি নেতাকর্মীদের বলছি, জাতীয় পার্টিতে আসুন, নির্বাচনে আসুন। আপনাদের দলকে এখন আর কেউ চায় না। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এরশাদ বলেন, দেশে হত্যা, গুম বেড়ে গেছে। এখন মানুষ আর শান্তিতে ঘুমাতে পারে না। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে দেশে শান্তি আসবে। জাতীয় পার্টিতে নতুন মহাসচিব আসার পরে দল সংগঠিত হচ্ছে। ঈদের পরে রাজশাহী ও নাটোরে জনসভা করে উত্তরবঙ্গের বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে জাতীয় পার্টি দেখিয়ে দেবে। সামনে বিএনপির অন্ধকার দিন আসছে। এরশাদ আরো বলেন, ১১ বছর পর রাজশাহী মহানগর কমিটির কাউন্সিল হচ্ছে। এখনই মহানগর কমিটি ঘোষণা করছি না। আমি কমিটির দায়িত্ব নিচ্ছি। আমর ওপর আস্থা রাখুন। আমি ঢাকায় গিয়ে ভালো কমিটি ঘোষণা করবো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বেলা ১১টায় মহানগর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপনের সভাপতিত্বে সম্মেলনের শুরুতে রাজশাহীর আশেপাশের বিভিন্ন জেলার নেতারা বক্তব্য দেন। এরপর দুই গ্রুপের হাতাহাতির মধ্যে এরশাদ বক্তৃতা শুরু করলে পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দীন বাবলু, প্র্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর, বিশেষ বক্তা দলের সিনিয়র যগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দিতে পারেননি।