‘সরকারে আর আমাদের মন্ত্রী রাখব না’ মর্মে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম–লীর সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভা থেকে জাপা সরে আসলে তা হবে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। এর মাধ্যমে এরশাদ, তাঁর দল একই সঙ্গে সংসদীয় গণতন্ত্র রক্ষা পাবে।’
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমির এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিলটি আমার কাছে আসবে। যারা সংসদে নেই, আমি তাদেরও ডাকব। তারা তাদের মতামত দিতে পারবে। বিএনপিও চাইলে তারা এতে মতামত দিতে পারবে। সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলকেও ডাকা হবে। তাদের মতামতও নেয়া হবে। তবে তাদের মতামত গ্রহণ করা হলো, না বর্জন করা হলো এটা বড় কথা নয়। এই মতামত রেকর্ড করা হবে এবং সংসদীয় কমিটির কাছে থাকবে। শতবর্ষ পরেও কেউ দেখতে চাইলে তার পারবেন।
তিনি বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য সংবিধান সংশোধন করলেই হবে না। এর জন্য আরেকটি আইন লাগবে। ওই আইনটি পাস হলে এখন যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সংশয়ের কথা তারা বলছে, এটা আর থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এই সংশোধনী হলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার আইনের উর্ধ্বে নয়, তারা আইনের লংঘন করলে বা অসদাচরণ করলে তার ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। তেমনি বিচারপতিদের জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কারণ দেশের বিচার বিভাগকেও কোথাও না কোথাও জবাবদিহীতার ব্যবস্থা রাখতে হয়। বিশ্বের প্রতিটি সংসদীয় গনতান্ত্রিক দেশে বিচারপতিদের আইনসভার মাধ্যমে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা হয়।
সুরঞ্জিত বলেন, বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কিভাবে বিচার করা হবে, কারা এদের তদন্ত করবে? সেসব বিষয় নতুন আইনে উল্লেখ থাকবে।