ভূরুঙ্গামারীর আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে একটি মেয়েকে অপহরণ করে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। মামলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন। সোমবার দিবাগত রাতে ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন পরিষদে এ অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
পরে অপহরণের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকেরছড়া গ্রামের সাইফুর রহমানের কন্যা (১৮) রিক্সা করে যাওয়ার সময় মোগলকাটা নামক স্থানে ইউপি চেয়ারম্যান গাজীউর রহমানের নির্দেশে একদল সন্ত্রাসী মেয়েটিকে অপহরণ ও যৌন হয়রানী করে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখে। মেয়ের আত্বীয়-স্বজন এবং স্থানীয় জনতা খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে বিচারের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এজেএম এরশাদ আহসান হাবিব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা তাকেও অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে রাত দুইটার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাবুদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলওয়ার হাসান ইনাম, ওসি তদন্ত খান শাহরিয়ার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাদের উদ্ধার করে।
পরে অপহৃতা রাতেই ইউপি চেয়ারম্যান গাজীউর রহমানকে ১ নং আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ মশিউর রহমান (৩৫) ও বাবু মিয়া (২৮) নামক দুই যুবককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেএম এরশাদ আহসান হাবিব ও ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি (তদন্ত) খান শাহরিয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্ত চলছে। দায়ীদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।