গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন বিধিমালায় সামান্য পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের যে বিধিমালা রয়েছে সেটার বাস্তবায়ন বাংলাদেশ ব্যাংক করতে চায় না। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এটা করতে গিয়ে তাদের ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ হয়। এটা সত্য, রেগুলেটরি বডি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তা করতে পারে না। অন্য কী ভাবে করা যায়, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক আছে, সব মিলিয়ে করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকার এখন কী করবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা ব্যবস্থা করব’। এর আগে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত লি জুনের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক শেষে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করা হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, ওই অংশটি সংশোধন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের বিধিমালা জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ওই বিধিমালায় গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ছয় মাস সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। সে হিসাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার শেষ সময় হচ্ছে আগামী ৫ অক্টোবর। শুধু গ্রামীণ ব্যাংক নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ব্যাংকেরই পরিচালক নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় না।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের পর থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদ গঠনে একের পর এক সংকট তৈরি হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে চেষ্টা করেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করা যায়নি। সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান এক বছর আগে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও অন্য কেউ রাজি না হওয়ায় তা এখনো গ্রহণ করা হয়নি। আর সর্বশেষ সংকট দেখা দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন নিয়ে।
ইঅ/চৌফে/শ২৮৫