নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় খুন হওয়া ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের ডিএনএ পরীক্ষা করতে ৮ মাস পর কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল কবরস্থান থেকে ওই লাশটি উত্তোলন করা হয়। তাজুলকে হত্যার অভিযোগ উঠে র্যাব-১১ এর কয়েকজনের বিরুদ্ধে। নিহতের বাবার অভিযোগ— র্যাব-১১ এর ক্যাম্পে তাজুলকে আটক করে ৩৫ লাখ টাকার চেক সই করে রাখার পরেই তাকে হত্যা করা হয়। মামলাটি এখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসমতউল্লাহর উপস্থিতি লাশ উদ্ধারের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি নারায়ণগঞ্জ জোনের এএসপি এহসানউদ্দিন চৌধুরী, বন্দর থানার এসআই আবু তালেবের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় নিহতের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সোনারগাঁও মোগড়াপাড়া এলাকার রয়েল স্পেশাল ক্লিনিকের মালিক তাজুল ইসলাম গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়। ১৫ দিন পর ২ জানুয়ারি মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া একটি লাশ তাজুলের পরিবার তার লাশ হিসেবে শনাক্ত করে। তাজুল ইসলামের বাবা জহিরুল হক মোল্লা বাদী হয়ে নিহতের ব্যবসায়িক অংশীদার ও ফুফাতো ডাঃ কামরুজ্জামানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় ইতোপূর্বে র্যাবের বিরুদ্ধে মানববন্ধনও হয়েছে।
সিআইডি নারায়ণগঞ্জ অফিসের এএসপি এহসান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশটি তাজুল ইসলামের কি না তা আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এজন্যই ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য লাশ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিহতের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর জানান, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর সোনারগাঁওয়ের ললাটি এলাকা র্যাব পরিচয়ে একটি হাইএইস গাড়িতে জোরপূর্বক তুলে তাজুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। ৪ জানুয়ারী মেঘনা নদীতে পাওয়া যায় তাজুলের লাশ। তাজুলের পেটের নাভির নিচে কাটা ছিল। ডান হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল।
নিহত তাজুলের বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক মোল্লা বলেন, ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর তাজুল ইসলামকে বন্দর জাঙ্গাল বাসস্ট্যান্ড থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে অবস্থিত র্যাব-১১ এর একটি ক্যাম্পে নিয়ে আটকে নির্যাতন করা হয়। তখন তাজুলের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকার চেকও সই করে রাখে। ওই ঘটনায় ২৩ নভেম্বর বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী এবং ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন তাজুল। জিডি ও মামলা দায়েরের পর র্যাবের সিও তারেক সাঈদ তাজুলকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যান। পরে ১৭ ডিসেম্বর তাজুল অপহরণের কিছুদিন পরে র্যাবের সিও তারেক সাঈদের সঙ্গে মেয়ে হাসিনাকে নিয়ে দেখা করতে গেলেও সে আমাদের নিয়ে বিদ্রুপ করেছে। এছাড়া আমি যাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলাম তখন সোনারগাঁও থানার ওসি তাদের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে কালক্ষেপন করেছে। ২ দিন পরে নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত হিসেবে মামলা নিয়েছে। পরে মামলাটি ডিবিতে হয়ে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ সুপারের (বর্তমানে প্রত্যাহারকৃত সৈয়দ নুরুল ইসলাম) কাছে গেলে তিনি আপোষ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তার সে প্রস্তাবে সাড়া দেইনি।