র‌্যাব কর্মকর্তাকে গণপিটুনি, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

 
 
 
 
গাইবান্ধা সদরের ঘাগোয়া ইউনিয়নের রূপারবাজার এলাকায় খুলনা র‌্যাব-৬ এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোনাহার হোসেনকে (২৯) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। সোমবার রাতে ওই এলাকায় প্রাক্তণ প্রেমিকার বাড়িতে আসলে এ ঘটনা ঘটে।
 
মোনাহার হোসেন গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ছোট দেওড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। পুলিশ তাকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এদিকে প্রাক্তণ প্রেমিকা তার বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন’ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
 
সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিউর রহমান জানান, রূপার বাজার এলাকার এক কিশোরীর সঙ্গে ময়মনসিংহ পলিটেকনিকে পড়ার সময় ২০১০ সালে মোনোহারের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সময় মোনাহার হোসেন ময়মনসিংহ কোতয়ালি থানায় সাবইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি জানান, অভিযুক্ত র‌্যাব কর্মকর্তা ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড় বছর পর অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেন। পরে দীর্ঘ ৬ মাস পর আবারও নতুন করে মোবাইল ফোনে প্রাক্তণ প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। সেই সূত্রে রবিবার রাতে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় তিনি র্যাবের কষ্টকর পোস্টিং বাতিলের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দেয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চান। ওই ছাত্রী তার কথা বিশ্বাস করে বাবাকে বিষয়টি জানান। তার পিতাও ওই টাকা সংগ্রহ করার জন্য মেয়ের নানা বাড়ী পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলায় তার মাকে পাঠায় এবং তিনি তার কর্মস্থল ময়মনসিংহ চলে যান। এই সুযোগে ওই ছাত্রীটিকে মনোহর ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্রীটির চিত্কারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা ঐ র‌্যাব কর্মকর্তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
 
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশসুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, র‌্যাব উপ পরিদর্শক মোনাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী একটি মামলা দায়ের করেছেন।