মুদ্রণ আছে নাকি নাই

আমার খুব কাছের এক ছোটভাইয়ের বই প্রকাশিত হয়েছে একুশে বইমেলায়। তো বই স্টলে আসার দুদিন পরেই তার ফোন। গলা শুনে বুঝলাম সে খুশিতে গদগদ হয়ে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘এত খুশি যে? কারণ কী?’

ছোটভাই বলল, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে একজন লেখক কেন খুশি হয় বা খুশি থাকে, আপনি জানেন না? আরে আমার বইয়ের প্রথম মুদ্রণ শেষ হয়ে গেছে।’

আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম, ‘বলিস কী! দুদিন আগে না বইটা স্টলে এলো? এই দুইদিনে একটা বইয়ের মুদ্রণ কীভাবে শেষ হয়?’

ছোটভাই বলল, ‘ভাই, কীভাবে শেষ হয় এই টাইপের গোয়েন্দা মার্কা প্রশ্ন না করে ব্যাপারটা ইনজয় করেন।’

আমি এমন একটা ভাব করলাম, যেন ঠিকঠিকই ইনজয় করছি। কিন্তু মনের অস্থিরতা কোনোভাবেই দূর করতে পারছিলাম না। তাই তার বই যে প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে, সেই প্রকাশনীর প্রকাশককে ফোন দিলাম। জিজ্ঞেস করলাম সত্যিই বইটার মুদ্রণ শেষ হয়েছে কি না। প্রকাশক হাসল। খুবই রহস্যজনক হাসি। আমি প্রশ্নটা আবার করলাম।

এবার প্রকাশক বলল, ‘জি, শেষ হয়েছে। কিন্তু একটু অন্যভাবে শেষ হয়েছে, এই আরকি।’

আমি জানতে চাইলাম, ‘অন্যভাবে বলতে কিভাবে?’

প্রকাশক বলল, ‘প্রথমে দশ কপি পাঠিয়েছিলাম মেলায়। তারপর বাকি নব্বই কপি পাঠিয়েছিলাম ভ্যানে করে। একশ কপির এডিশন করেছিলাম কি না। তো ভ্যানওয়ালা যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চেনে না, তা তো আর জানতাম না। ব্যস, ওই বেটা যে বইভর্তি ভ্যান নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে, আর পাত্তা নাই। তো যতদিন না ভ্যানওয়ালার পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ‘বইটার মুদ্রণ শেষ’ এমনটাই বলা যাবে। ভ্যানওয়ালা যদি ফেরত আসে, তাহলে কিন্তু আর ‘মুদ্রণ শেষ’ বলা যাবে না। কারণ, ভ্যানভরাই বই।’

আমি এবার ছোটভাইকে ফোন দিয়ে বললাম, ‘শিগগিরই একটা দোয়ার আয়োজন কর। কিসের দোয়া জানিস? যাতে ভ্যানওয়লা ফিরে না আসে, সেই দোয়া। কারণ, ভ্যানওয়ালা ফিরে এলে তোর লেখকগিরি শেষ।’

আমার এক বন্ধু বলল, ‘মেলার শেষদিকে আমার একবার মেলায় যেতে হবে।’

আমি বললাম, ‘শেষদিকে কেন?’

বন্ধু বলল, ‘শেষদিকে হয়তো বেশি ছাড়ে বই পাওয়া যাবে। আমার মোটামোটা কিছু বইয়ের দরকার।’

আমি বললাম, ‘মোটা বইয়ের দরকার কেন?’

বন্ধু বলল, ‘না, মানে আজকাল আমি ব্যয়াম শুরু করেছি। ভারী জিনিস ওঠালে নামালে মাসল হয় নিশ্চয়ই জানিস। আশা করছি, মোটা মোটা বই ওঠানামা করালে মাসলও বাড়বে, বইপ্রেমী হিসেবে সমাজে একটা পরিচিতিও ছড়াবে। পরিচিতির দরকার আছে কিন্তু। ঠিক কি না?’