আমরা প্রত্যেকেই দুর্নীতিপরায়ণতায় অংশ গ্রহণ করি: অর্থমন্ত্রী

 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতিপরায়ণতায় অংশগ্রহণ করি। যে কারণে দুর্নীতির সঠিক তথ্যও পাওয়া যায় না, স্বাক্ষ্যও পাওয়া দুরূহ। বলতে গেলে আমাদের দেশে দুর্নীতি প্রমাণ করা অলমোস্ট অসম্ভব। তাছাড়া আমরা নিজরো যত আইন-কানুন করি, সেখানেই দুর্নীতির ফাঁক-ফোকার রাখা হয়। মনের দুঃখে কথাগুলো বললাম। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী ফিরোজ রশীদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন,  ১৯৪৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগে মাত্র একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদকে ইঙ্গিত করে) শাস্তি হয়েছে। উচ্চ পদস্থ আর কোনো কর্মকর্তার আজ পর্যন্ত শাস্তি হয়নি। তার মানে দুর্নীতিতে আমরা এতটাই লিপ্ত যে, এর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেয়া বা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আইন করে হলেও এ ব্যাপারে আমাদের সাহস সঞ্চার করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কালো টাকা কী ভাবে হয় সবাই জানি। সবচেয়ে বেশি কালো টাকা হয় সম্পত্তি বা জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে আমি সবার জনমত চাই। কারণ, জমি কেনার ক্ষেত্রে এখন যে কর দেয়া হয়, তাতে ফাঁক থাকে। জমির সঠিক মূল্য দেখানো হয় না। যারা কারণে বহু লোক কালো টাকার মালিক হতে না চাইলেও হয়ে যান। সে জন্য জনমত দরকার। আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে না। জনমত না থাকার কারণেই বাজেট করার সময় এনিয়ে হইচই হয়।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতির অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমাদের আইনের দুর্বলতা ছিল। প্রথমে আমরা সেগুলো সংস্কার করেছি। সে ক্ষেত্রে আমরা বাস্তবে কতটুকু কী করতে পেরেছি, তা বলতে চাই না, বলা ঠিকও হবে না।
তারেকের পাচার করা টাকা কোথায় আছে এখনো জানি না:
অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র কোকোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও মামলা-মোকদ্দমা আছে। তিনি জামিনে আছেন। তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে। এর আগে জানতে হবে তার পাচার করা টাকাটা কোথায় আছে। সেটি এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
ব্যাংকে প্রচুর অলস টাকা পড়ে থাকা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পর্কিত আ খ ম জাহাঙ্গীরের এক সম্পূলক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচুর অলস টাকা পড়ে আছে, কথাটা ঠিক নয়। ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। যারা এটা বলছে তারা সব হিসাব জানে না। আন্দাজে বলছে, সেখানে যতেষ্ঠ ভুলভালো ও ত্রুটি রয়েছে।
শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ৮ পরিকল্পনা:
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত জানান, শেয়ার মার্কেটের গতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার আটটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। শেয়ার বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে ২০১৬ সালের মধ্যে পৃথক ক্লিয়ারিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, বন্ড মার্কেট প্রসারের পরিকল্পনা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি সংক্রান্ত বিধি প্রণয়ণসহ ২০১৬-১৮ সালের মধ্যে স্কুল ও কলেজের পাঠক্রমে ফাইন্সিয়াল লিটারেসি কোর্স প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বৈদিশিক ঋণের বোঝা:
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাথার ওপর এক লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বৈদিশিক ঋণ রয়েছে। এ হিসাব ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে কেবল বৈদিশিক ঋণের সুদ বাবদ সরকারকে এক হাজার ৫৭১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঋণের আসল বাবদ ৮ হাজার ১শ’ ৮৫ কোটি টাকাও পরিশোধ করেছে।
প্রবাসী আয়:
মামুনুর রশিদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে সোনালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি পর্যায়ে ইসলামী, ন্যাশনাল ও ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী আয়ে শীর্ষে ছিলো। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ৫ হাজার ৫৮৯ মার্কিন ডলার, অগ্রণী ব্যাংক ৫ হাজার ৫৬৮ মার্কিন ডলার ও জনতা ব্যাংক  ৪ হাজার ৪৫৪ মার্কিন ডলার রেমিটেন্স আয় করে। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক ১৪ হাজার ৯৯ মার্কিন ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংক ৩ হাজার ২১ মার্কিন ডলার ও ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৭৮ মার্কিন ডলার আয় করেছে।
 
পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ:
দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরমধ্যে ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর সিঙ্গাপুর হতে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার ফেরত আনা হয়েছে।
ইঅ/চৌফে/শ৬২১