উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বড় বিনিয়োগ

 
উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য বড় আকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সরকারি প্রাথমিক হিসাবের সাথে মিলিয়ে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বিদায়ী ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের মোট দেশজ আয়ের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) হতে পারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এসময়ে কৃষি খাতের উত্পাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলে বিগত সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় শিল্প উত্পাদন ধীর হয়ে পড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রান্তিকের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বুধবার হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এডিবি।
প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরের (২০১৪-১৫) বাজেট নিয়ে একটি বিশ্লেষণও দেয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হতে পারে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
২০০১ সালের পর প্রথম বারের মতো রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরো বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সাথেই চলছে। রাজস্ব নীতির সাথে একটি সতর্ক মুদ্রানীতির ফলে গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি নিম্নগতি রয়েছে। বাজেটে ভর্তূক কমে আসাসহ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ ব্যয় না হওয়ার ফলে বাজেটের ঘাটতির আকার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে মধ্য মেয়াদে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ২০১৪ সাল নাদাগ বিনিয়োগ বাড়াতে হবে জিডিপির ২৮.৭ ভাগে।  সেই সাথে প্রবৃদ্ধি হতে হবে অন্তর্ভূক্তিমূলক। বিনিয়োগ বাড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। খাতের ব্যবসা শুরুর খরচ কমিয়ে বহির্বিশ্বে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অগ্রাধিকার ৬ প্রকল্প যেমন, গভীর সমুদ্র বন্দর, পদ্মা বহুমূখী সেতু, এলএনজি টার্মিনাল নির্মান, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র উল্লেখযোগ্য।
চলতি অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চ্যলেঞ্জ রয়েছে। বিগত সময়ের রাজস্ব আদায়ের পরিমানও লক্ষ্যমাত্রা থেকে কম হয়েছে। বড় আকারের বৈদেশিক সহায়তা অর্জনের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ রয়েগেছে। রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক সহায়তা কম হলে সরকারের অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমান বাড়বে। যা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং মূল্যস্ফীতিও উর্ধ্বমূখি হতে পারে। পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান হলেও বাস্তবায়ন দক্ষতার ঘাটতির ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন (এডিবি) চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এডিবি।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রোডাক্টিভিটি বা দক্ষতা বাড়াতে হবে। গত দুই দশকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মূলত মূলধন বাড়ার কারণে। কিন্তু মূলধন বাড়ার বিপরীতে প্রকৃত উত্পাদন তুলনামূলক কম হয়। সম্ভাব্য উত্পাদন ও প্রকৃত উত্পাদনে ফারাক থেকে যায়। শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মূলধনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে সার্বিক প্রোডাক্টিভিটি বা দক্ষতা বাড়াতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়িক খরচ কমাতে হবে। বিদ্যুত ও ঋণ বাবদ খরচ কমিয়ে আইন শৃঙ্ক্ষলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে। তাছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দেশের সব ধরনের অবকাঠামোর গুণগত মান বাড়াতে হবে।