সত্যজিত্ বিশ্বাস
আফসোস করে
লাভ কী?
স্যার :এভাবে চলতে থাকলে ৫০ বছর পর সুন্দরবনে আর বাঘ থাকবে না। ভাবা যায়, বলো?
ছাত্র :৫০ বছর পর তো স্যার আপনিও থাকবেন না, আফসোস করে লাভ কী বলেন?
বই অমূল্য সম্পদ
সাংবাদিক :কী ব্যাপার, বইমেলায় এসে ঘুরঘুর করছেন, বই নেড়েচেড়ে দেখছেন, কিনছেন না কেন?
পাঠক :বই তো কিনতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু একটা বাণী মনে হলেই তো আর কিনতে পারি না।
সাংবাদিক :কী বাণী?
পাঠক :বই অমূল্য সম্পদ।
সাংবাদিক :হ্যাঁ, ঠিকই তো আছে, সমস্যা কী?
পাঠক :বই যদি অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকে কী করে টাকা দিয়ে কিনে এর অবমূল্যায়ন করি?
লিডার কে?
প্রথম বন্ধু :বল তো, কে লিডার হতে পারে?
দ্বিতীয় বন্ধু :কে?
প্রথম বন্ধু :যে কখনো চুপচাপ ব্যর্থতা মেনে নেয় না।
দ্বিতীয় বন্ধু :ব্যর্থতা মেনে না নিয়ে কী করে? প্রতিবাদ?
প্রথম বন্ধু :আরে ধুর, সাথে সাথে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়!
নিখুঁত
প্রথম বন্ধু :জানিস, আমি আকাশের দিকে তাকিয়েই সময় বলে দিতে পারি।
দ্বিতীয় বন্ধু :তাই নাকি? মিনিট, সেকেন্ড ঠিক ঠিক বলতে পারবি?
প্রথম বন্ধু :তা কী সম্ভব?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন সম্ভব না? আমি তো আকাশের দিকে না তাকিয়েও মিনিট, সেকেন্ড নিখুঁত বলতে পারি।
প্রথম বন্ধু :কিভাবে?
দ্বিতীয় বন্ধু :মোবাইল দেখে।
অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে কী হবে?
বিক্রেতা :ভাই, এই বইটা নিয়ে যান। এটা পড়লে জীবনে সফল হওয়ার অর্ধেক পথ পাড়ি দেওয়া হয়ে যাবে।
ক্রেতা :এর দ্বিতীয় খণ্ডটা?
বিক্রেতা :দ্বিতীয় খণ্ড তো নেই।
ক্রেতা :তাহলে আর এটা কিনে কী হবে?
প্রশ্নোত্তর
প্রকাশক :আপনাকে রেখেছি স্টলে বসে বই পড়ার জন্য নাকি মানুষ ডেকে বই বিক্রি করার জন্য?
বিক্রেতা :বই বিক্রি করার জন্য।
প্রকাশক :তাহলে আসল কাজ বাদ দিয়ে বই পড়ছেন যে? এ জন্য কী আপনাকে বেতন দিই?
বিক্রেতা :সে জন্য তো আপনার কাছে বেতন চাইওনি।
সুন্দরবনের রাজা হবে কে?
বাচ্চা :মা, বাবা বলল ৫০ বছর পর সুন্দরবনে নাকি আর কোনো বাঘ থাকবে না।
মা :বাবা ঠিকই বলেছে।
বাচ্চা :তখন বনের রাজা হবে কে?
মা :তাও তো কথা। এটা তো আসলেই চিন্তার বিষয়।
বাচ্চা :ধুর বোকা, এটা আবার চিন্তার কী আছে? তখন আমাদের বাসার মতো অবস্থা হবে।
মা :মানে?
বাচ্চা :আমাদের বাসার রাজা যেমন তুমি, তেমনি বাঘের বউ হবে বনের রাজা।
বাঘ থাকবে না, সুন্দরবন থাকবে তো?
প্রথম বন্ধু :দোস্ত, শুনেছিস ৫০ বছর পর সুন্দরবনে আর বাঘ থাকবে না।
দ্বিতীয় বন্ধু :আরে ধুর, ৫০ বছর পর সুন্দরবন থাকবে কী না, তাই বল?
ব্যালেন্স
সারা দুনিয়া চলে ব্যালেন্সের ওপর।
একটা পাখি কিংবা বিমান ডানায় ভর দিয়ে সারা পৃথিবী চক্কর দিয়ে আসতে পারে। ব্যাপারটা ব্যালেন্সের।
সাইকেল চালানো থেকে সাঁতার—এখানেও সেই ব্যালেন্স। ব্যালেন্স হারালেই দুর্ঘটনা।
দুই পাহাড়ের মাঝখানে একটা দড়ি বেঁধে দিয়ে তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়াও সম্ভব। তবে ব্যালেন্স হারালে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
যদি ব্যালেন্স রাখতে পারেন, চোখ বুঁজেও হেঁটে আসতে পারেন দীর্ঘ, বন্ধুর পথ।
ব্যালেন্স রাখতে জানলে, অফিস শেষে জমিয়ে আড্ডা সেরে বাড়ি ফেরার পর বউও হাতে তুলে দেবে এক কাপ গরম চা।
মোরাল অব দ্য স্টোরি কি?
কখনো ব্যালেন্স হারাবেন না। অন্তত ব্যাংক ব্যালেন্স তো নয়ই।
পার্সেন্টিজ
প্রেমিক :কী ব্যাপার, গোলাপের এত দাম কেন এখানে?
গোলাপ বিক্রেতা :স্যার, গোলাপ ভালোবাসার প্রতীক তো, তাই দাম একটু বেশিই।
প্রেমিক :এখানে মনে হয় গোলাপের খুব অভাব, তাই না? যদি সস্তায় কিছু গোলাপ সাপ্লাই দিই, পার্সেন্টিজ দেবে?
গোলাপ বিক্রেতা :গোলাপ সাপ্লাই না দিয়ে কিছু জুটি সাপ্লাই দেন, পার্সেন্টিজ দিব নে।
দামাদামি
ক্রেতা :ভাই, গোলাপ কত করে?
গোলাপ বিক্রেতা :৪০ টাকা পিস।
ক্রেতা :বলো কী, এত দাম! আচ্ছা যদি পাঁচ পিস নিই?
গোলাপ বিক্রেতা :পাঁচ পিস কেন ৫০ পিস নিলেও একই দাম।
ক্রেতা :এই নাও ৪০ টাকা। দাও তাহলে ৫০ পিসই দাও।
পারলে বসে আছ কেন?
জামাই :মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়, সংসারে আগুন লাগিয়ে দিই।
বউ :গতকাল থেকে গ্যাস নেই জেনেও এখনো বসে আছ?
কমিটমেন্ট আছে বলেই তো রপ্তানি করি
আদালত :আপনি দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেন, একটুও কী খারাপ লাগে না?
অভিযুক্ত ব্যক্তি :খারাপ লাগবে কেন?
আদালত :দেশের প্রতি কি আপনার কোনো কমিটমেন্ট নেই?
অভিযুক্ত ব্যক্তি :কমিটমেন্ট আছে বলেই তো এত রিস্ক নিয়েও দেশের টাকা বিদেশে রপ্তানি করি।
আর কিছু নেই
বিচারক :এই টাকা পাচার মামলার রায় ঘোষণার আগে কোর্টকে আপনার কিছু বলার কিংবা দেবার আছে?
আসামী :আজ্ঞে না হুজুর, পুরো মামলা চালাতে যা কিছু ছিল সব দেওয়া শেষ। নগদ যে পাঁচ শ টাকা চিপায় রেখেছিলাম, সেটাও আমার উকিল হাতিয়ে নিয়ে গেছে। আর কিছু দেবার নেই আমার।
চোর কখনো নিজের ঘরে চুরি করে?
প্রথম বন্ধু :এই যে দেশের এত এত টাকা চুরি-ডাকাতি করে সুইচ ব্যাংকে জমাচ্ছে, এটা না করে ওরা যদি সুইচ ব্যাংকের সব টাকা মেরে দিত, তাহলে কত লাভ হতো না?
দ্বিতীয় বন্ধু :ধুর, তোর যেমন বুদ্ধি। কোনো চোরকে কখনো নিজের ঘরে চুরি করতে শুনেছিস?
কাজ বেশি, কথা কম
প্রথম বন্ধু :টেন্ডার ছাড়াই কাটা হলো রেলওয়ের শতাধিক গাছ—এটা কোনো কথা হলো?
দ্বিতীয় বন্ধু :কথা হয়নি তো, কাজ হয়েছে। জানিস না, এখন নতুন লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
প্রথম বন্ধু :কী লক্ষ্য?
দ্বিতীয় বন্ধু :কাজ বেশি, কথা কম।
গিট্টু
প্রশ্ন :বলেন তো দেখি, দড়ির গিট্টু খোলা গেলেও কোন তিন জিনিসের গিট্টু শত চেষ্টা করেও খোলা যায় না?
উত্তর হলো :১. নারীর মন।
২. রাজনীতি।
৩. ঢাকা শহরের জ্যাম।
রাস্তায় থাকি
অফিস কলিগ :আপনি কই থাকেন?
ফারুক সাহেব :রাস্তায়।
অফিস কলিগ :ভাই কী আমার সাথে মজা নিচ্ছেন?
ফারুক সাহেব :মজা নেব কেন? সত্যি।
অফিস কলিগ :আপনি রাস্তায় থাকেন?
ফারুক সাহেব :আমার বাসা উত্তরা। প্রতিদিন উত্তরা থেকে মতিঝিল আসি অফিস করতে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটে রাস্তার জ্যামে। জ্যামে বসেই খাই, জ্যামে বসেই ঘুমাই। এবার আপনিই বলেন, ভুল বললাম কই?
মামার লগে মাসির বাড়ির গপ্পো
বাস কন্ডাকটর :ওস্তাদ, হুনছেন নি, ঢাকা বলে অহন পিতিবির সবচেয়ে জ্যামের শহর।
ড্রাইভার :ধুর বেডা, মামার লগে মাসির বাড়ির গপ্পো করস? যেদিন ড্রাইভারের সিটে বইছি, হেইদিনই তো জানি।
স্লিপিং সার্ভিস
প্রথম বাস মালিক :নারে ভাই, এ ব্যবসা আর করা যাবে না।
দ্বিতীয় বাস মালিক :কেন?
প্রথম বাস মালিক :জ্যামের ঠেলায় বাসের চাকাই তো ঘোরে না। খুশিতে ব্যবসা করবেন ক্যামনে?
দ্বিতীয় বাস মালিক :কী যে বলেন? এখন তো আরও সুপার ব্যবসা হবে।
প্রথম বাস মালিক :কিভাবে?
দ্বিতীয় বাস মালিক :আগে যাত্রী যেত বসে, এবার চারগুণ ভাড়া দিয়ে যাবে শুয়ে।
প্রথম বাস মালিক :বুঝলাম না ভাই।
দ্বিতীয় বাস মালিক :এখন যাত্রী, কোথায় নামবে বলে স্লিপিং সিটে ঘুমিয়ে পড়বে। জায়গা মতো আসলে কন্ডাকটর ডেকে নামিয়ে দেবে। যাত্রীও খুশি থাকবে, রাস্তায় গালি খেতে খেতে যাওয়া ড্রাইভার, কন্ডাকটরও আর গালাগালি না খেয়ে খুশি থাকবে। এমনকি যাত্রীর ঘুম ভালো হলে কিছু টিপসও দিয়ে যেতে পারে নামার সময়।
প্রথম বাস মালিক :এ তো দুর্দান্ত আইডিয়া। সিটিং সার্ভিসের পর তাহলে এবার আসছে স্লিপিং সার্ভিস।
জ্যাম কমানোর জন্যই তো
ট্রাফিক পুলিশ :নিয়ম-কানুন না মেনে সিগন্যাল অমান্য করলেন কেন?
ড্রাইভার :রাস্তার জ্যাম কমানোর জন্যই তো।
ট্রাফিক পুলিশ :কী করে?
ড্রাইভার :ভাবলাম রাস্তায় যে জ্যাম, তাড়াতাড়ি গাড়িটা বাসার গ্যারেজে ঢুকিয়ে রাখি।