শতাধিক তারকার নগ্ন ও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ নিয়ে হলিউডে তোলপাড় চলছে। এসব ছবির তালিকায় রয়েছেন সেলেনা গোমেজ, কেট আপটন, কার্স্টেন ডান্সট থেকে শুরু করে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সের মতো তারকারা। অনেকের ধারণা, কেউ তাদের অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ করে ছবিগুলি পেয়েছে। বাকিদের দাবি, ছবিগুলি ভুয়া। এদিকে, চাপে পড়ে সব ছবিই সরিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মালিক। তবে এই ঘটনার পরে ‘অ্যাপল’-এর ‘আই ক্লাউড’-এর সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যে সব ছবি ওই সাইটে প্রকাশিত হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ব্যক্তিগত আই ক্লাউড অ্যাকাউন্টে সংগ্রহ করে রেখেছিলেন তারকাদের কেউ কেউ। অনেকে আবার তা মুছেও দিয়েছিলেন। তা হলে তার পরেও কী ভাবে ছবিগুলি সাইটে গেল? তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে, এমন ধারণা করা হচ্ছে তাই। অ্যাপল অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ধরা পড়েনি হ্যাকারও।
তবে এই ছবি-বিতর্কের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে আই ক্লাউডের নিরাপত্তা নিয়ে। ২০১১ সালের অক্টোবরে এটি চালু করেছিল অ্যাপল। আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাকবুক ব্যবহারকারীরা এই পরিষেবা পান। এটি চালু করলেই ব্যবহারকারীর সমস্ত ছবি, গান, ভিডিও যাবতীয় তথ্য জমা হতে থাকে। পরে প্রয়োজনে নিজের ই-মেল আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সেগুলি দেখতে পারেন ব্যবহারকারীরা।
কারও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি, হয়তো পেশাদার ফোটোশুটের ছবি এ ভাবে প্রকাশ করা যে বেআইনি সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে জেনিফার লরেন্সের মুখপাত্র বলেছেন, এটা গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যদি ফের কেউ লরেন্সের ছবি এ ভাবে চুরি করে প্রকাশ করে, তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে, ‘ফাইনাল ডেস্টিনেশন থ্রি’-র অভিনেত্রী মেরি এলিজাবেথ উইনস্টেড বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। তার বিতর্কিত ছবিও প্রকাশিত হয়েছিল ওই সাইটে। টুইটারে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, যারা ছবিগুলি দেখছেন, তাদের জানাই ওটি দীর্ঘদিন আগে স্বামীর সঙ্গে ঘরের ভেতর তুলেছিলাম। এটা জেনে আপনারা নিশ্চয়ই আরও বেশি মজা পেলেন। অনেক তারকার দাবি, ছবিগুলি ভুয়ো। প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেগুলি ‘নষ্ট’ করা হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে সাইটটির কর্ণধার পেরেজ হিলটন টুইটারে বলেন, তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে খেয়ালই করিনি, কী হচ্ছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।...ছবিগুলি সরিয়ে নিয়েছি।
ছবি-ফাঁস কাণ্ডে তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে এফবিআই। তবে তদন্ত কত দূর এগিয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি তারা।