মিথ্যা বক্তব্যে খন্দকার সাহেব তারেকের পর্যায়ে: মেনন

 
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে খন্দকার সাহেবের বক্তব্য নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক। এর মধ্য দিয়ে তিনি তারেক রহমানের পর্যায়ে চলে গেলেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের কথা বলতে গেলে বস্তুনিষ্ঠ হতে হয়। আর এ ধরনের প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে এটা আরও জরুরি। খন্দকার সাহেব নিজ কানে না শুনে অপরের কথা বলেছেন। সেটা কতখানি তথ্যভিত্তিক ছিল, লেখার আগে সেটা যাচাই করে নেয়া উচিত ছিল। তবে এতে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। কেননা সাতই মার্চের ভাষণে প্রতিটি কথাতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার আহ্বান স্পষ্ট ছিল।
আজ শুক্রবার সকালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গাজীপুর জেলা কর্মীসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ একথা বলেন। গাজীপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড মীর দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, সামরিক নেতৃত্ব নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। এই সত্য বিস্মৃত হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেই বিকৃত করা হয়। এটা সৌভাগ্যের যে, মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা আজও বেঁচে আছেন। তাই তারেক রহমানরা যতই চিত্কার করুক তা কোনও কাজে লাগবে না। পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের উদ্বৃতি দিয়ে মেনন বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনী শেখ হাসিনার সরকার এবং ত্রিপুরার সরকার উত্খাত করার জন্য চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে। এটি আজকে আমাদের সামনে যখন এসেছে তখন আমারা দেখি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এটাকে অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, আমরা জানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অস্বীকার করলে কি হবে। এই বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার আগে ও পরে যে ঘটনা ঘটেছিল সেগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী ছিল। কেবলমাত্র আজকে নয় ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের সেই ঘটনাবলি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে তারা লিপ্ত ছিল। সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজকে এ দেশের জনগণের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এর বিরুদ্ধেও আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাদের বন্ধু হয় তাদের শত্রুর কোন আর প্রয়োজন পড়ে না। আমরা জানি, বন্ধুত্বের নাম করে তারা দেশে দেশে নানা ধরনের জুলুম-অন্যায় করে।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, জামায়াত ইসলাম ‘ইসলাম’ নয়। তারা ইসলামের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। একদিকে তারা মুখে বলে আল্লাহ ছাড়া তারা কারও কাছে মাথা নত করে না, অন্য দিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে তারা মার্কিনদের কাছে মাথা নত করে। ইসলামের নামে এই ভণ্ডামির রাজনীতি প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এই জাতিকে আল কায়দার হুমকি দেখিয়ে বশীভূত করা যাবে না।
 
ইঅ/চৌফে/শ৩৮৭