বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদার শাখা খোলার ঘোষণার বিষয়টি বাংলাদেশসহ বিদেশি গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। উপমহাদেশে জঙ্গি শাখার ঘোষণাটি প্রাসঙ্গিক কারণেই গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের গণমাধ্যমগুলোতেও। এ সব গণমাধ্যমের খবরে জাওয়াহিরির বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভিডিও প্রকাশের খবর প্রচারের পর ভারত সরকার দেশব্যাপী নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এ খবর ভারতের প্রথমসারির গণমাধ্যমের প্রথম পৃষ্ঠায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের শিরোনাম ছিলো ‘আল-কায়েদা কামস আউট অব কোল্ড টু কল ফর জিহাদ ইন ইন্ডিয়া’। দ্য হিন্দুর শিরোনাম ছিলো ‘ইন্ডিয়া নাউ ইন আল কায়েদা সাইটস’। যার অর্থ দাঁড়ায় আল কায়েদার নজরে এখন ভারত। এ অঞ্চলে আল কায়েদার শক্তি না থাকলেও পত্রিকাগুলো সরকারকে নিরাপত্তা জোরদার করার আহবান জানিয়েছে।
দ্য হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে ভারত অনেক উন্নতি করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। সরকারের এটা জানা দরকার কারণ নষ্ট করার মতো কোনো সময় এখন নেই। পত্রিকাটি আরো সতর্ক করে জানায়, সম্ভবত পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গিরা আল কায়েদাকে সহায়তা করছে। দি এশিয়ান এজ বলছে, এ হুমকি হালকাভাবে নেয়া ঠিক হবে না।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়ে আজ বিবিসির করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইবার সঙ্গে আল-কায়েদার যোগসূত্রতা ভারত সরকারের জন্য সমস্যা আরো বৃদ্ধি করতে পারে। দ্য হিন্দুকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষক ব্রুস রিডেল বলেন, জাওয়াহিরির বক্তব্য খুবই উদ্বেগের। এটা হতে পারে দুই জঙ্গি সংগঠনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, গত বুধবার এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে শাখা খোলার ঘোষণা দেন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি। ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়ে জিহাদের পতাকা তুলে ধরতেই এই শাখার সূচনা বলে জানান তিনি। এর আগে এ বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছিল আল-কায়েদা।
ইঅ/চৌফে/শ২৭২