কাজী শাহেদ আহমেদের ৭৩ বছর বয়সে লেখা প্রথম উপন্যাস ‘ভৈরব’-এর ইংরেজি ভাষান্তর এবং নতুন উপন্যাস ‘পাশা’-এর মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। বই দু’টি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশন। গতকাল বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ দু’টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন নজরুল গবেষক ভাষাসৈনিক ড. রফিকুল ইসলাম, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, লেখক কাজী শাহেদ আহমেদ, ড. কাজী আনিস আহমেদ এবং ভৈরব উপন্যাসের অনুবাদক আরিফা গণী রহমান প্রমুখ।
মোড়ক উন্মোচন করে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, কাজী শাহেদ আহমেদের সাথে আমার প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই তিনি আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছেন নানাভাবে। ৭৩ বছর বয়সে উপন্যাস লিখে আমাকে যেমন অভিভূত করেছিলেন, তেমনই ‘পাশা’ লিখে আমাকে আবার অভিভূত করেছেন তিনি। কেননা, কোন লেখকের প্রথম বই বের হওয়াটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় বই। তিনি বলেন, প্রথম বই লেখার জন্য অনেকেরই অনেক কিছু থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় বই বের করার জন্য চিন্তাভাবনা এবং বই প্রকাশের অনেক কিছুই সীমিত হয়ে আসে। পৃথিবীতে এমন অনেক উদাহরণ আছে যে, কোন কোন লেখকের একটা মাত্র বই বের হয়েছে।
তিনি এসময় এ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বের হওয়া স্বাধীনতা যুদ্ধের উপঅধিনায়ক এ কে খন্দকারের লেখা বই প্রসঙ্গে প্রচণ্ড ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা আর কতদিন চলবে! এ চলতে দেয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে একজন আমাদের দেশে বসে এবং একজন বিদেশে বসে দেশের নতুন ইতিহাস দিচ্ছেন!
বই দু’টির লেখক কাজী শাহেদ আহমেদ ‘পাশা’ উপন্যাসটি লেখা প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার বাবা আমাকে কলকাতাতে নিয়ে গিয়েছিলেন ৬২ বছর আগে। কলকাতার অনেক জায়গা ঘুরে দেখানোর পর বাবা আমাকে বেশ কয়েকজন তত্কালীন স্বদেশী আন্দোলনের সাথে জড়িতের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের অনেকেই ছিলেন মুসলিম। সেই সব স্মৃতি থেকে এই বইটা লেখা। তবে এই বইটিতে আপনারা প্রেমেরও স্বাদ পাবেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘পাশা‘ উপন্যাসের খণ্ডাংশের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি মঞ্চ নাটকও প্রদর্শিত হয়। এতে অভিনয় করেন- রাইসুল ইসলাম আসাদ, মুনিরা মিঠু এবং জাহিদ হাসান শোভন। এছাড়া এই অনুষ্ঠানে নাটকের মাঝেই একটি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্য শিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও তার দল।
স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি পদক ২০১৪ প্রদান করেছে শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন। এবারের এ পদক পেলেন চিত্রশিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী ও সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। শনিবার সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে খ্যাতিমান এই দুই ব্যক্তির হাতে পদক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্প-সমালোচক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন পুরস্কার প্রাপ্ত দুই গুণী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ। এছাড়াও এসময় আলতাফ মাহমুদের পত্নী সারা আরা মাহমুদ ও তনয়া শাওন মাহমুদসহ আলতাফ মাহমুদের ভক্ত ও অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাট্যকর্মী শিমুল ইউসুফ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী যন্ত্রযানের যাপিত জীবন : প্রতিবছর নগরীর রাস্তায় যোগ হচ্ছে ১০ হাজারেরও বেশি গাড়ি। আর এই বাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইনের লংঘন, অপরাধ ও মামলার সংখ্যা। সেই সুবাদে প্রতিদিন শত শত গাড়ি, রিকশা আটক হচ্ছে পুলিশের হাতে। সেগুলোকে মামলার আলামত হিসেবে অথবা বৈধ মালিকানার অভাবে জড়ো করে রাখা হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তের ডাম্পইয়ার্ডে বা থানা কম্পাউন্ডে। এসব গাড়িগুলোর সর্বশেষ পরিণতি কী? ক্যামেরার আশ্রয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন আলোকচিত্রী শফিক রহমান। গত দুই বছর ধরে রাজধানীর যন্ত্রযানের নানা দিককে উপজীব্য করে ছবি তুলেছেন তিনি। সেসব ছবি নিয়ে শুরু হলো তার দ্বিতীয় একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। শিরোনাম যন্ত্রযানের যাপিত জীবন।
গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা আর্ট সেন্টারে সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থপতি অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ হাসান মাহমুদ। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।