নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত র্যাবের এস আই পূর্ণেন্দু বালার আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরীফ এই আদেশ দেন। ফতুল্লা মডেল থানায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের করা মামলায় পূর্ণেন্দু বালাকে রিমান্ডে নেয় হয়।
এর আগে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে পূর্ণেন্দু বালাকে আদালতে পাঠানো হলে শুনানি শেষে আদালত তার আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে পূর্ণেন্দু বালা নামের ঐ এসআইয়ের গ্রেফতার নিয়েও রয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। র্যাব বলছে, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। আর ডিবি পুলিশ বলছে, শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ নিয়ে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় র্যাবের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৯জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
প্রসঙ্গত, সাত খুনের ঘটনায় প্রথম দফায় গ্রেফতার হন র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানা। এ তিনজনই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট গভীর রাতে র্যাবের আরো পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, ল্যান্স নায়েক মো. বেলাল হোসেন ও হিরা মিয়া এবং সেপাহী আবু তৈয়ব আলী ও মো. আরিফ হোসেন। এদের মধ্যে এমদাদ ও আবু তৈয়ব বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি), আরিফ নৌবাহিনীর এবং ল্যান্স নায়েক মো. বেলাল হোসেন ও হিরা মিয়া আনসার বাহিনীর সদস্য। সাত খুনের ঘটনার পর আবু তৈয়ব ও হিরা মিয়াকে নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। অন্য তিনজন র্যাবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩০ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় কনস্টেবল শিহাবউদ্দিনকে। তারা সকলেই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
র্যাবের ছয় সদস্য আদালতে দাবি করেছেন, সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুম করতে র্যাব-১১-এর শীর্ষ তিন কর্মকর্তা তাদের বাধ্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এক দিন পর উদ্ধার করা হয় আরও একটি লাশ।
এ ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা মডেল থানায় কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় চন্দনের জামাতা বিজয় কুমার পালও ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাত খুনের ঘটনায় জড়িত বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত র্যাবের ২৩ সদস্যকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৬ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনও সন্দেহভাজনদের প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, ২৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এদের ১৮ জনকে আসামি করা হতে পারে। বাকিরা এ মামলার সাক্ষী হতে পারেন।