সাত খুন: আসামি র‌্যাব সদস্যের আত্মহত্যার চেষ্টা

নারায়নগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি গ্রেফতারকৃত র‌্যাব-১১ এর সাবেক সদস্য ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন (৪৭) কারাগারে  আত্মহত্যার চেষ্টা করেন । তিনি ব্লেড দিয়ে  গলা ও পেটকেটে ফেলেন। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শুক্রবার রাতে নারায়নগঞ্জে জেলা কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। বেলাল হোসেন ইতিমধ্যে সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
অপর দিকে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব -১১ এর সাবেক আরও এক সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। তার নাম পূর্ণেন্দু বালা। তিনি পুলিশের উপ-পরিধর্শক (এসআই)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গতকাল তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এ নিয়ে সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হলো  র্যাবের ১০ সদস্যসহ ২২ জন। এদের মধ্যে র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ ৯জন দায় স্বীকার করে আদালতে জবাববন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত সংস্থা নারায়নগঞ্জে জেলা ডিবি সূত্র জানায়, গত ২৬ আগস্ট সাত খুন মামলায় গ্রেফতার হয় র‌্যাব -১১ সাবেক সদস্য ল্যান্স বেলাল হোসেন, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া ও সিপাহী আবু তৈয়ব। আর ৩০ আগস্ট গ্রেফতার হয় কনস্টেবল শিহাবউদ্দিন। তারা প্রত্যেকেই হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে  আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবাবনবন্দিতে তারা জানিয়েছেন, র‌্যাব-১১ এর শীর্ষ তিন কর্মকর্তা তাদেরকে বাধ্য করেছিলেন। জবানবন্দি শেষে আদালতে নির্দেশে তাদেরকে পাঠানো হয় নারায়নগঞ্জ জেলা কারাগারে।
নারায়নগঞ্জ জেলা কারা সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন ব্লেড দিয়ে গলা ও পেট কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি কারারক্ষীদের নজরে আসে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় নারায়নগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নাক-কান-গলা ইউনিট-১ চিকিত্সাধীন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী রেজিস্টার ডা. আসিফ জানিয়েছেন, বেলাল হোসেনের শ্বাসনালী কেটে গেছে। তার অবস্থা আশংকা জনক।
বেলাল হোসেন ভাগিনা আরিফ হোসেন জানান, তিনি কারারক্ষীদের মাধ্যমে জেনেছেন তার মামা কারাগারে আত্মহত্যার চেস্টা করেন। তিনি আরও জানান, বেলাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার গুরুদাসপুর। তিনি আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তার পরিবার পরিজন গ্রামের বাড়িতে থাকেন।
র‌্যাব -১১এর আরও এক সদস্য গ্রেফতার: উপ-পরিদর্শক পূর্নেন্দু বালাকে শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব । পরে তাকে সোর্পদ করা হয় নারায়নগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে। র‌্যাবের  মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, পূর্নেন্দু বালা গত ২ মে ছুটিতে যাওয়ার পর থেকে আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এ কারণে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে র‌্যাব তাকে আটক করে।  শুক্রবার বিকালে ফার্মগেট এলাকার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক আনোয়ার লফিত জানান, সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলার তদন্তকর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পূর্নেন্দু বালাকে চেয়েছিল। এ প্রেক্ষিতে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকর্মকর্তা  নারায়নগঞ্জ জেলা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল জানান, পূর্নেন্দু বালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত সূত্র জানায়,  সাত খুনের ঘটনায় জড়িত বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত র্যাবের ২৩ সদস্যকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে আসামি হতে পারেন ১৮ জন। বাকীরা হতে পারেন সাক্ষী।