রুয়েটের ৩ ক্ষুদে বিজ্ঞানীর অগ্নিনির্বাপন রোবট উদ্ভাবন

 
 
 
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তিন ক্ষুদে বিজ্ঞানী উদ্ভাবন করেছেন অভাবনীয় অগ্নি নির্বাপন রোবট। যা রিমোটের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপন করতে সক্ষম হবে। শনিবার বিকাল ৩টায় রুয়েট ক্যাফেটোরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই রোবটটি প্রদর্শন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিন ক্ষুদে বিজ্ঞানী যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ সরকার, মুস্তাফা মুহিবুল্লাহ শোভন ও তড়িেকৗশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরীফ আহমেদ বলেন, অগ্নি বিপর্যয় বর্তমান বিশ্বের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা আমাদের দেশেও কম নয়। বরং গত কয়েক বছরে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর প্রধান সমস্যা হিসেবে গবেষকগণ অপরিকল্পিত অগ্নিনির্বাপন ব্যাবস্থা ও পর্যাপ্ত  যন্ত্রপাতির অভাবকেই দায়ি করেন। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আর বিদেশী প্রযুক্তির দারস্থ হতে হবে না। তাদের উদ্ভাবন তত্ত্বাবধায়ন করেছেন রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান।
তারা বলেন, বাংলাদেশে অগ্নিনির্বাপনের জন্য তেমন উন্নত প্রযুক্তি নেই। ফায়ার বিগ্রেডের সদস্যরা যেভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে তা ফলপ্রসু হলেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ সাধারণ ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এখানে বিদ্যুতিক সার্কিটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলে অনেক সমস্যা বা হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এই সব সমস্যার সমাধান করতে কার্বন ডাই অক্সাইডের ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার কাজে লাগিয়ে রিমোটের সাহায্যে ক্লাশ-বি টাইপের আগুন নেভাতে সক্ষম। যার নাম দেয়া হয়েছে ফায়ারকপ। এটি সহজেই যেকোনো জায়গায় চলাচল করতে পারবে এবং দুর থেকেই রিমোটের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী সৌরভ সরকার বলেন, ‘কোথাও আগুন লাগলে সেখানে রোবটটি পৌছে দুর থেকে নিয়ন্ত্রিত রোবট কন্ট্রোলারের সাহায্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড স্প্রে করবে। এতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ আগুনের তীব্রতা কমাবে। ফলে একদিকে অগ্নি নির্বাপন কর্মীদের ঝুকি যেমন কমবে, তেমনি উদ্ধার কর্মীদের উদ্ধার কাজে চলাচল করতে সহজ হবে।’
আরেক ক্ষুদে বিজ্ঞানী  মো. শরীফ আহমেদ বলেন, ‘সহজ অপারেটিং সিস্টেমের সাহায্যে এটি তৈরি করা হয়েছে। যাতে করে যে কেউ এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। অনেক ক্ষেত্রে অগ্নি নির্বাপন কর্মীদের পেছাতে যে সময় অপচয় হয়, তাতে সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করে। এক্ষেত্রে রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী মুস্তাফা মুহিবুল্লাহ শোভন বলেন, ‘রোবটটির প্রতিটি অংশ তাপ সহনীয় পদার্থ থাকবে। এতে করে রোবটটি আগুনের খুব কাছাকাছি পৌছে আগুন নেভাতে পারবে। আধুনিকায়নের মাধ্যমে এতে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। ফলে এর সঠিক অবস্থান দুর থেকে জেনে এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। রোবটটি সিড়ি জাতীয় কোনো বাধা যাতে সহজেই অতিক্রম করতে পারে সে লক্ষে এক ধরণের বিশেষ চাকা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।’
এ ব্যাপারে রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান জানান, এ রোবটটি বাণিজ্যিবভাবে তৈরি হলে দেশের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এজন্য রোবটটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।