বড় দলগুলো মিলে সংকট সমাধান সম্ভব: খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে আবে

 
 
 
 
সফররত জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে এই বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, বৈঠককালে জাপান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- বাংলাদেশের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেকগুলো বড় রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি, জাপান সরকার এটি অবগত আছে। বাংলাদেশের বড় দলগুলো নিজেরাই আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে শিনজো বলেছেন— যা দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলেও গ্রহণযোগ্য হবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। তবে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হোটেলে ফেরেন ৭টার কয়েক মিনিট আগে। প্রায় পৌনে ৭টার দিকে হোটেলে এসে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া, বৈঠক শুরুর আগ পর্যন্ত দলীয় নেতাদের নিয়ে তিনি একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন।
৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আধাঘণ্টা বৈঠক শেষে শমসের মবির চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে বিএনপির সঙ্গে সরকারের কোনো আলোচনা হয়নি। বিষয়টি আমরা গণমাধ্যম সূত্রে জেনেছি, এনিয়ে বৈঠকেও কথা ওঠেনি। তিনি জানান, এর আগে বাংলাদেশ তিনবার এই পদে নির্বাচিত হয়েছিল, সর্বপ্রথম নির্বাচিত হয় ১৯৭৮ সালে। এবারই প্রথম বাংলাদেশ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করল। এর আগে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
শমসের মবিন জানান, বৈঠকে শিনজো আবে ও খালেদা জিয়া দুজনই একমত পোষণ করেন যে, বাংলাদেশের আর্থসামজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন থাকা অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, জাপান প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়া বলেছেন- ‘আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত, ১৪ বছর পর জাপানের কোনো সরকার প্রধান বাংলাদেশ সফরে এলেন। বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা প্রশংসনীয়। এজন্য বিএনপি ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি জাপানকে ধন্যবাদ জানাই।’ এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বহুমুখী।’ এ ছাড়া দ্বি-পক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দু’দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হোক-খালেদা জিয়া সেই আশা প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে শমসের মবিন চৌধুরী ছাড়াও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম. মোর্শেদ খান, সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তারা হোটেলে আসেন ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে। পরে খালেদা জিয়া আসলে তারা তাকে স্বাগত জানিয়ে বৈঠক স্থলে নিয়ে যান।
ইঅ/চৌফে/শ৩৭৬