অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয় করল দক্ষিণ আফ্রিকা। হারারে স্পোটর্স ক্লাব মাঠে গতকাল অনুষ্ঠিত ফাইনালে অসিদের ৬ উইকেটে হারায় প্রোটিয়াসরা। প্রথমে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ২১৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ৫৫ বল হাতে রেখে জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে টস ভাগ্যে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিং-এর আমন্ত্রণ জানান দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেনি অসিরা। ৪৯ রানের মধ্যে ২ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে তারা। ওপেনার ফিলিপ হিউজ ১৫ ও ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ ফিরেন ১০ রানে।
এরপর আরেক ওপেনার এ্যারন ফিঞ্চের সাথে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জর্জ বেইলি। কিন্তু এ ম্যাচেও ব্যর্থ বেইলি করেন মাত্র ১২ রান।
উপরের সারির তিন ব্যাটম্যানের বিদায়ের পরও অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে যাচ্ছিলেন ফিঞ্চ। ফলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরি পেয়ে যান তিনি। তবে অর্ধশতকের পর নিজের নামের পাশে মাত্র ৪ রান যোগ করতে পেরেছেন ফিঞ্চ। ৫টি চারের সহায়তায় ৮৭ বলে ৫৪ রান করেন তিনি।
IMG0
দলীয় ১১৫ রানে ফিঞ্চের বিদায়ের পর মিনি ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। পরবর্তী ২৯ রানে আরো ৪ উইকেট খুইয়ে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানে পরিণত হয় অসিরা। আর তাতে খুব দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে তারা। তবে নবম উইকেটে জেমস ফকনার-মিচেল স্টার্ক মিলে ৭১ রানের মহামূল্যবান জুটি গড়লে ৯ উইকেটে ২১৭ রানের সম্মানজনক স্কোর পায় অসিরা। ফকনার ৩৯ রানে সাজঘরে ফিরলেও, ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন স্টার্ক। ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার ছিলেন ডেল স্টেইন।
ফাইনাল জয়ের জন্য ২১৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ১৪ রানের ওপেনার কুইন্ট ডি কক-কে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৭ রান করেন কক। দ্বিতীয় উইকেটে শুরুতে উইকেট হারানোর ধাক্কাটা ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন আরেক ওপেনার হাসিম আমলা ও ইনফর্ম ফাফ ডু-প্লেসিস। এ ম্যাচেও ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন ডু-প্লেসিস। কম যাননি আমলাও। ফলে দু’জনই পেয়েছেন হাফ-সেঞ্চুরির দেখা।
ডু-প্লেসিসের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৮ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৫১ রানের থামেন আমলা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৫তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া ইনিংসে মাত্র ২টি বাউন্ডারি হাঁকান আমলা।
আমলা ফিরে গেলেও চলতি টুর্নামেন্টে চতুর্থ সেঞ্চুরির দিকেই ছুটছিলেন ডু-প্লেসিস। আর তাতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে প্রোটিয়াসরা। সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা পেয়েছে। তবে সেঞ্চুরির স্বপ্ন চুরমার হয়েছে ডু-প্লেসিসের। কারণ, দলের জয় থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে ব্যক্তিগত ৯৬ রানে আউট হন ডু-প্লেসিস। তার ৯৯ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও একটি ছক্কার মার ছিল। এ ছাড়া অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাট থেকেও আসে অপরাজিত ৫৭ রান। বাউন্ডারির হাঁকিয়ে দলের জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করেন ডি-ভিলিয়ার্সই। ম্যাচে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন স্টেইন। আর টুর্নামেন্টে ৫ ইনিংসে ব্যাট করে ৪৬৪ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার পান ডু-প্লেসিস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া ২১৭/৯, ৫০ ওভার (এ্যারন ফিঞ্চ ৫৪, জেমস ফকনার ৩৯, স্টেইন ৪/৩৪)।
দক্ষিণ আফ্রিকা ২২১/৪, ৪০.৫ ওভার (ফাফ ডু-প্লেসিস ৯৬, এবি ডিলিয়ার্স ৫৭*, স্টিভেন স্মিথ ১/৯)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেট জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ডেল স্টেইন (দক্ষিণ আফ্রিকা)।
ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট : ফাফ ডু-প্লেসিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)। খবর বাসসের।