বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম আইটি খাতেরও হাব হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে উল্লেখ করেছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থিত বন্দর, কাস্টম, ইপিজেড, শিপিং, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, সিএন্ডএফ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে আইটির ব্যবহার ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করছে। শিল্পাঞ্চলের মত আইটি ভিলেজ স্থাপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে এ খাতের বিশাল উন্নয়ন করা যাবে।
২০ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে ‘দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ‘ই-জেনারেশনের’ যৌথ উদ্যোগে ‘চট্টগ্রামকে তথ্যপ্রযুক্তির গন্তব্যস্থল এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানির প্রদর্শন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক হয়। বৈঠকে এসব কথা বলেন মাহবুবুল আলম।
তিনি বলেন, এ খাতে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে আউটসোর্সিং এ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্বল্প পুঁজিতে স্বনির্ভরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অবশ্যই আইটিকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ও ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। চেম্বার সভাপতি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি আইটি খাতেও চট্টগ্রাম অদূর ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দিবে বলে প্রত্যাশা করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন ই-জেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম আহসান। ই-জেনারেশনের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল ইসলাম বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আরো পড়ুন: সম্মান বাড়াতে পর্ন অভিনয়ে এসেছি: মিয়া খলিফা
ই-জেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম আহসান বলেন-১৯৮৩ সালে ভারতের বেঙ্গালোরো ইনফোসিস, উইপ্রো তাদের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করে, এরপর অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিরাও স্থানটি এখন ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানিরা তুলনামূলক কম বেতনে অধিক জনবলকে চাকরি দেয়ার সুযোগ পায়। আর এভাবেই গোটা আইটি আউটসোর্সিং মডেল তৈরি হয়েছে।
ই-জেনারেশন গ্রুপের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। সকল ব্যবসায় এবং এই খাতের উন্নয়নে বর্ধনশীল তথ্যপ্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। এই অঞ্চলে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে ইকোসিস্টেম তৈরি করে স্টার্ট আপগুলো এগিয়ে যেতে পারে এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো সহায়তার মাধ্যমে তাদের দ্রুত উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে আইটি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এ খাতে পাবলিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং প্রশাসনিক ও কমার্শিয়াল রাজধানী পৃথকীকরণ করার জন্য ব্যবসায়ী সমাজকে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানানোর অনুরোধ জানান।
ইত্তেফাক/জেডএইচ