ভারত ও পাকিস্তানে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও কাশ্মিরে বন্যায় এখন পর্যন্ত ২০৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরেও বন্যা এবং ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০০ জনের।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আহমেদ কামাল জানান, পাঞ্জাবে ১৩১ জন, গিলজিত বালতিস্তানে ১১ জন ও আজাদ কাশ্মিরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩ হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেনাব নদীর ত্রিম্মু ব্যারেজ দিয়ে গতকাল এক লাখ ৭৭ হাজার কিউসেক পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়েছে।
বন্যা দুর্গতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার সকালে রাওয়ালকোট এলাকায় যান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।
IMG0
এদিকে, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে প্রবল বন্যায় অঞ্চলটির টেলি ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় গত সপ্তাহে প্রায় দুইশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানী শ্রীনগরসহ রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায়ই বিদ্যুৎ নেই। টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। লোকজন অভিযোগ করেছে, রবিবার রাত থেকে তারা বন্যায় আটকে পড়া লোকজনের কোনও খবর নিতে পারছেন না।
বন্যায় ভেসে গেছে শতাধিক গ্রাম। ২৩,০০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও বন্যায় আটক হয়ে আছেন লক্ষাধিক মানুষ।
IMG1
বিমান-সেনা-নৌ বাহিনীর কমান্ডোদের নিয়ে যৌথভাবে উদ্ধারকার্য চলছে। ঝিলামের জলে প্লাবিত হয়েছে রাজধানী শ্রীনগরের বহু বাড়ি, মিলিটারি ঝাউনি ও হাসপাতাল। বাদামি বাগ ক্যানটনমেন্ট থেকে ১,৪০০ জন সেনা কর্মী ও তাদের পরিবারের লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়া ৬০ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাশ্মীরে কাজ করতে যাওয়া ১৫ জন শ্রমিকেরও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা বাহিনীর প্রধান ওপি সিং বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় আমরা আমাদের দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। হজের নির্ধাতির ফ্লাইটগুলো ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
IMG2
এই সঙ্কটের সময় পাকিস্তানও ভারতকে যথাসম্ভব সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লিখেছেন, এই বিপর্যয়ের সময় আপনি পাশে দাঁড়ানোর যে বার্তা দিয়েছেন, তা মূল্যবান। সে জন্য ধন্যবাদ। আমরাও যথাসাধ্য সাহায্য করব।
মোদি জম্মু ও কাশ্মিরে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরই শরিফকে সাহায্যের কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সূত্র: ডন, হিন্দুস্তান টাইমস, জিনিউজ।