গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কালো কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় শাকিলা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধুকে স্বামী পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে ঐ গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী আল-আমিন (৩০) ও তার পরিবারের লোকজন পালাতক রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ও সি এবি এম জাহিদুল ইসলাম মামলা ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত. তয়েজ উদ্দিনের মেয়ে শাকিলা বেগমের সাথে দুইবছর আগে পার্শ্ববর্তী বেতগাড়া গ্রামের মৃত. মিজানুর রহমানের ছেলে আল-আমিন (৩০) এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী তাকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করতো। বাচ্চা জম্ম নিলে হয়তো তার ঘরে শান্তি ফিরে আসবে এই ভেবে সম্প্রতি শাকিলা স্বামীর অমতে গর্ভে সন্তান ধারন করেন। গত ৩০ আগষ্ট তার বোনের সহায়তায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় আরও ক্ষুব্ধ হয় পাষন্ড স্বামী আল-আমীন। তাই খবর পেয়েও সন্তান দেখতে তিনি ক্লিনিকে যায়নি। এক পর্যায়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর শাকিলা সুস্থ হয়ে শিশু কন্যাকে নিয়ে স্বামীর বাড়ীতে ফিরে আসেন। কিন্তু স্বামী আল-আমীন তাকে কালো রংঙের কন্যা সন্তান জম্ম দেওয়ায় গালিগালাজ করে। সোমবার সন্ধ্যায় স্বামী তাকে বেধড়ক পেটায়। এতে শাকিলা গুরুতর অসুস্থ হলে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহে তার মুখে বিষ ঢেলে লাশ আঙ্গিনায় রেখে ঘরে তালা মেরে আল-আমিন পালিয়ে যায়। প্রতিবেশিরা অঙ্গিনায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা মর্গে পাঠান।
তিনি আরো জানান, এনিয়ে নিহতের ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিষ্পাপ শিশুটি বর্তমানে নিহত শাকিলার ভাইদের হেফাজতে আছে।
তবে আল-আমিনের পরিবারের দাবি, কালো রংঙের কন্যা শিশু জম্ম দেওয়ায় স্বামী ও তার বাড়ির লোকজনের গালিগালাজ সহ্য করতে না পেরে শাকিলা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।