বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশের (বিপিসি) ৪৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু বকর সিদ্দিকসহ পাঁচজনকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে কমিশন বৈঠকে এ প্রতিবেদনের অনুমোদন দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ওশান লস (সমুদ্রে পরিবহনজনিত লোকসান) কম-বেশি দেখিয়ে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের বিপরীতে বিপিসি ৪৭৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক।
মামলা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান) আবু বকর সিদ্দিক, ওএসডিতে থাকা অতিরিক্ত সচিব (বিপিসির সাবেক সচিব) আনোয়ারুল করিম, বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম জাফরউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত সচিব), বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মুক্তাদির আলী এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) ও বিপিসির সাবেক ডিএমডি মো. আবদুল আউয়াল।
এ ব্যাপারে কমিশনার (তদন্ত) সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, প্রাথমিকভাবে দুদকে অভিযোগ আসে যে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কুয়েত থেকে দেশে যে তেল আসে তার লোডিং পয়েন্ট এ তেলে পরিমান বৃদ্ধি দেখিয়ে অতিরিক্ত মুল্য পরিশোধ করা হয়েছে। এই মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সরকারের ৪৭৬ কোটি টাকা মত আর্থিক ক্ষতি হয়। এ তথ্যে আমরা চট্টগ্রামের বন্দর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করি। পরে মামলা তদন্তে জানা যায়, তেল পরিমাপের জন্য দুটি দেশের মনোনিত সার্ভেয়ার চট্টগ্রাম বন্দরে তেলে পরিমান নির্নয় করবে। তার দেয়া তথ্যে সরকার মূল্য পরিশোধ করবে। এ ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষের মনোনিত সার্ভেরের মাধ্যমে বন্দরে এ আমাদানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় বলে এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।