আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্কাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এ কে খন্দকার খুবই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যিনি সকল সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে সুবিধা গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি তার লেখা প্রকাশিত বইটি কোনো সুবিধা প্রাপ্তির উদ্দেশ্য নিয়েই লেখা। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হবে। তিনি ইতিহাস বিকৃতির জন্য একে খন্দকারকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত চলমান রাজনীতি শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, বিচারপতিদের পদের সুরক্ষা ও সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা বাড়ানোর জন্যই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হচ্ছে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ৩ জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কর্তৃক বিচারপতিদের অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, এ কারণ জনগণের নিকট প্রায় তা গোপনই থাকে। কিন্তু প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া অনেক স্বচ্ছ ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। জনগণ এ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে জানতে পারবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী গৃহীত হলে দুই- তৃতীয়াংশ অর্থাত্ ২৩৪ জন সংসদ সদস্যের সম্মতিতে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে সংসদে অভিসংশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
হাছান মাহমুদ বলেন, যে প্রক্রিয়া জনগণ জানে না তা বাদ দেয়াই উত্তম। সংশোধনী প্রস্তাব বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ড. কামাল হোসেনসহ ৭২ এর সংবিধান রচয়িতাদের মধ্যে অনেকেই আজ এটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, যিনি আজ বলছেন যে বিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মাধ্যমে এ সংশোধনী আনা ঠিক হবে না। অথচ তিনি নিজেই ১৯৭২ এর সংবিধান রচনার সময় বঙ্গবন্ুর ছেড়ে দেয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির অন্যান্য নেতাদের সামপ্রতিক বক্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান মূলত আইয়ুব খানের আইনকেই অনুকরণ করেন। আর এখন ফখরুল সাহেবরা সামরিক সরকারের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইছেন।
বঙ্গবন্ধু একাডেমীর সভাপতি হুমায়ুন কবির মিজির সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজউদ্দিন মিয়া, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুন চৌধুরী প্রমুখ।
ইঅ/চৌফে/শ৩০৭