‘সংবিধান সংশোধনে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হচ্ছে না’

 
‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রতিবেদ দেয়ার জন্য সংসদ সাতদিন সময় দিলেও মাত্র দুটি বৈঠক করেই কমিটি এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া সংসদীয় কমিটি বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেয়নি। বৃহস্পতিবার কমিটি সংসদে বিলের প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারে। প্রসঙ্গত, বিলটি সংসদে উত্থাপন হয়েছে রবিবার। এরপর বিলটি নিয়ে মঙ্গল ও বুধবার দুটি বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি।
সংসদীয় কমিটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিলের প্রস্তাবনা বাদ দিয়েছে। এছাড়া বিলের বিভিন্ন দফায় কিছু সংশোধনীও এনেছে। সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, বিলের ওপর বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হচ্ছে না। নতুন আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেয়া হবে। এখন মতামত নেয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ এটা সেটেল ইস্যু। এনিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, অন্তরযামী রাজনীতি করে লাভ নেই। যারা সমালোচনা করছেন তারা বিভ্রান্ত হয়েই বির্তক করছেন। অনেক সংবিধান প্রণেতা এই বিলের সমালোচনা করছেন। তাদের করা সংবিধানই তো প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। সংবিধান সংশোধনের এই আইন পাস হলে বিচারপতিদের জবাবদিহিতা আরো বৃদ্ধি পাবে। বিচার ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে। সংবিধান অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের দ্বারাই দেশ পরিচালিত হবে।
ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলামের প্রতি ইঙ্গিত করে সুরঞ্জিত বলেন, যারা বলছেন এই সংসদ অবৈধ, তাদের বলছি সংসদ মানেন না, কোর্টকে তো মানেন। সংসদ না মানলে তো কোর্টও মানেন না। তারা সংবিধান প্রণেতা। তাদের আমরা সম্নান করি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোর্টকে কলুষিত করার সুযোগ দেয়া হবে না। বরং এটাকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। জবাবদিহিতা আরও স্বচ্ছ হবে।
 
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, চলতি অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হবে। এরপর তিন মাসের মধ্যে (৯০ দিন) বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে। সেখানে বিচারপতিদের অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি কেমন হবে, সেবিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকবে।
 
এই বিলের বিরুদ্ধে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত বিশেষ কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবার মত প্রকাশের অধিকার আছে। কেউ যদি এ ধরনের কমিটি গঠন করে তা আইনের লঙ্ঘন নয়। সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়।
 
কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য জিয়াউল হক মৃধা জানান, জাতীয় পার্টি (জাপা) শুরুতে বিলের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিলেও এখন তা পরিবর্তন হয়েছে। কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, এবিষয়ে বাইরে যে সমালোচনা চলছে, তা সঠিক নয়। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বিলটি সঠিক। স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য এই আইনের প্রয়োজন আছে। সুতরাং জাতীয় পার্টি বিলের বিরোধীতা করবে না।
 
কমিটি সূত্র জানায়, ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ উপঅনুচ্ছেদে পরিবর্তন করে ‘কোনো বিচারকের আসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন’- এই বিধান যুক্ত করার সুপািরশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
 
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য- আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল মতিন খসরু, সাহারা খাতুন, শামসুল হক টুকু, আব্দুল মজিদ খান, তালুকদার মো: ইউনুস, জিয়াউল হক মৃধা ও সফুরা বেগম অংশ নেন। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।