আলোচনা সভায় বক্তারা

বছরে প্রায় ১৯ লাখ মেয়ে বাল্য বিবাহের শিকার

                                                                         
 
 
 
 
আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৯ লাখ মেয়ে বাল্য বিবাহের শিকার হয় এবং ৯ লাখ মেয়ে শিশু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্তানের জন্ম দেয়। এ মন সব তথ্য উঠে আসে আজ বুধবার সিরডাপ মিলনায়তনে নির্যাতিত নারীদের প্রতি সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এক আলোচনা সভায়। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)।
পুষ্টির সঙ্গে স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে বাল্যবিয়ের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারিণীর পুষ্টিগতমানের ওপর তার দেহে বেড়ে ওঠা ভ্রুণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৮ বছরের নিচে কিছুতেই সন্তান জন্ম নিরাপদ নয়। ফলে অনেক সময় শিশুর, এমনকি মায়েরও মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আমাদের  বেশির ভাগ  নারীরা তাদের পুরুষ সঙ্গী দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের যে শিকার হয়, তাতে শুধু ঐ নারীটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং গোটা পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় কারণ নারীর প্রতি এই নির্যাতনের কারণে পরিবারের স্বাভাবিক কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সন্তানদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
বক্তরা বলেন, নারী নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনা পরিবারের মধ্যে ঘটে বলে পরিবারের মধ্যেই আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। নারী পুরুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। গতানুগতিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সকলের স্বার্থেই নারীর প্রতি নির্যাতন করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অন্যের ঘরে এ ধরনের নারী নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে হবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী নির্যাতনের কারণে বছরে ১৪ হাজার কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।
সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনওয়াজ দিলরুবা খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী সিতারা আহসানউল্লাহ ও ঢাকা জেলা প্রশাশনের ম্যাজিসট্রেট মমতাজ বেগম। উপস্থিত ছিলেন ন্যাশন্যাল ট্রমা সেন্টারের ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ও হেড ইশমত জাহান, জাতীয় মহিলা সংস্থার সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম নিজামী, খিলগাঁও থানার সাব ইন্সপেক্টর অব পুলিশ লিয়াকত আলী প্রমুখ।
 
ইঅ/চৌফে/শ৩০০