যুবলীগ নেতার বালুখনন : কর্তৃপক্ষ জানেন না, ঝুঁকিতে রেলসেতু

মালঞ্চি রেলসেতুটি নাটোরের আবদুলপুর রেলস্টেশন ও বাগাতিপাড়ার রেলস্টেশনের মাঝামাঝি অবস্থিত। রেলসেতুটির পাশ থেকে কয়েকদিন খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলছেন যুবলীগের স্থানীয় এক নেতা। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় দুই লাখ বর্গফুট বালু উত্তোলন করেছেন। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ তা বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এতে সেতুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

মালঞ্চি রেলসেতুর পশ্চিম পাশে বাগাতিপাড়ার প্যারাবাড়িয়া থেকে লালপুরের শোব গ্রাম পর্যন্ত বড়াল নদের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের কাজে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে বালু সরবরাহের দায়িত্ব পান লালপুরের চংধুপইল ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক প্রায় এক মাস আগে মালঞ্চি রেলসেতুর খুব কাছ থেকে বালু উত্তোলনের জন্য খননযন্ত্র স্থাপন করেন। ইতিমধ্যে সেখান থেকে তিনি প্রায় দুই লাখ বর্গফুট বালু তুলেছেন। সড়কে বালু ভরাটের কাজ শেষ। এখন তিনি বালু তুলে ব্যবসা করছেন।
তবে এ ব্যাপারে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বালু ওঠানোর ফলে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না। আমি ইঞ্জিনিয়ারের (প্রকৌশলী) কাছে শুনেছি।’ কোন প্রকৌশলীর কাছে শুনেছেন জানতে চাইলে তিনি তাঁর পরিচয় জানাতে পারেননি। তবে কী পরিমাণ বালু তুলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সড়কের জন্য এক লাখ ৮০ বর্গফুট বালু তুলেছি।’
বাগাতিপাড়া ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান আবদুল মান্নান জানান, যেকোনো অবকাঠামোর পাশ থেকে মাটি বা বালু ওঠানো ঠিক না। মালঞ্চি রেলসেতু বহু আগে তৈরি। যেভাবে বালু ওঠানো হচ্ছে, তাতে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মালঞ্চি রেলস্টেশনের পয়েন্টসম্যান আবদুর রাজ্জাককে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল কেন আপনারা বালু উত্তোলনে বাধা দিচ্ছেন না। জবাবে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের কর্তৃপক্ষ নিষেধ করতে বলেনি। তাই বালু ওঠাতে নিষেধ করিনি।’
পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিভাগীয় প্রকৌশলী (পাকশী-২) মনিরুল ফিরোজি বলেন, ‘সেতুর পাশ থেকে বালু উঠালে যেকোনো মুহূর্তে সেতুর ক্ষতি হতে পারে। মালঞ্চি সেতুর পাশ থেকে বালু ওঠানো হচ্ছে কি না, তা আমার জানা নাই। খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি তা করা হয় তাহলে অবশ্যই জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’