বগুড়ায় ছাত্রকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

পুলিশ ও র‌্যাবের আলাদা তদন্ত শুরু

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র নজরুলকে গত ৩০ আগস্ট রাতে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব।। এরপর র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একটি কক্ষের বালিশের কভারের ভেতরে ৪৯টি ইয়াবা পাওয়া গেছে। নজরুল ইয়াবা ব্যবসায়ী। এরপর তাঁকে র‌্যাব ক্যাম্পে নিয়ে নির‌্যাতন করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।

এ অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে র‌্যাব ও পুলিশ। গতকাল বুধবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশ আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-১২-এর অধিনায়ক জামিল আহমেদ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু র‌্যাব-১২-এর অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে এবং র‌্যাবের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে নজরুলকে নির‌্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেহেতু এ ঘটনার নেপথ্যে কোনো রহস্য থেকে থাকলে তা উদ্ঘাটন করতে হবে। এ উদ্দেশ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এটা র‌্যাব-১২-এর নিজস্ব তদন্ত।
গতকাল কয়েকটি দৈনিকে ‘ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে নির‌্যাতনের অভিযোগ র‌্যাবের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। র‌্যাব, পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার ঈদগাহ মাঠ লেনের ভাড়া বাসায় গিয়ে নজরুল সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ বিষয়ে নজরুলের বড় ভাই সাব্বির আহমেদ সন্ধ্যায় বলেন, একাধিক বাহিনীর সদস্যরা ভাড়া বাসায় গিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে নজরুল সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে চেয়েছেন।
এদিকে র‌্যাব ক্যাম্পে তুলে নিয়ে নজরুলের ওপর নির‌্যাতনের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আজ (গতকাল) তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য রেকর্ড করার পাশাপাশি বগুড়া কারাগারে গিয়ে নজরুলের সঙ্গে কথা বলা হবে।