আইন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, দেশের সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব আইনজীবীদের নয়, এ পবিত্র দলিল রক্ষার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় আওয়ামী লীগ দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ। সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই ষোড়শ সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।
তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সভায় এ কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু একাডেমীর উদ্যোগে চলমান রাজনীতি বিষয়ক আলোচনা সভায় সুরঞ্জিত আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দায়বদ্ধতার স্বার্থেই সংবিধানের এ সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। বিলটি সংসদে উপস্থাপনের পর তা সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। বিলের যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল তা ঠিক করে নতুন অবয়বে তা পাঠানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে আবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সংগঠনের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, একাডেমীর সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান খোকন ও মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।
সুরঞ্জিত বলেন, বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা কখনো সংসদের হাতে ছিল না। এখন এ ক্ষমতা নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
সংসদ একজনকে শুধু মাত্র অভিশংসন করতে পারে। তিনি হলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু স্পীকারকে অভিসংশন করতে পারে না। সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি তো দূরের কথা। কেননা তারা হলেন সরকারি চাকরি করে থাকেন।
সুরঞ্জিত বলেন, বিচারপতি নিয়োগ এবং অপসারণে সংসদ কিছুই করে না। কেননা রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দান করে এবং তিনিই আবার তাদের অপসারণ করেন।
তিনি বলেন, বিচারপতি বিচার কাজ পরিচালনায় অসমর্থ হলে এবং কোন অসদাচরণ করলে তাদের রাষ্ট্রপতি অপসারণ করতে পারবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তের পর তদন্ত কমিটি সংসদে পাঠাবে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একমত হলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। তারপর রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তিনি বলেন, তবে কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তিনি নিজের ইচ্ছায় রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠান। সকল বিচারপতিকে দক্ষ ও যোগ্য থাকতে হবে। তাহলে স্বাধীন বিচারপতি হিসেবে সকলেই তাকে সম্মান করবে।
সম্প্রতি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের করা মন্তব্যের জবাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনার বিষয়ে সরকারের কোন দূরভিসন্ধি নেই। কেননা ১৯৭২ সালের সংবিধানে যা ছিল তাই কেবল ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সামরিক ফরমান বলে সংবিধানে এ বিষয়ে যা সংযোজন এবং বিয়োজন করা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে মাত্র।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ হোসেনের আমলে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের বয়স বাড়ানো ছিল দূরভিসন্ধিমূলক। যার খেসারত পুরো দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে।