বিচারপতিদের অভিসংশন আইন সংশোধন বিলের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে আয়োজিত ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে নেতারা সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, যা কিছু ইচ্ছা, তাই করেন। কিন্তু মনে রাখবেন কোনো কিছইু বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। জনগণ অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সরকারকে বিদায় করা হবে। দেয়ালের ভাষা পড়ার চেষ্টা করুন। ভালোয় ভালোয় ক্ষমতা ছাড়ুন। জনগণের ভাষা বুঝে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চন দিন। না হলে জনগণ ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা দেশে এখন কবরের নীরবতা বিরাজ করছে। আর শান্তি করছে সরকার। জনগণ শান্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটা মাত্র স্লোগানে সরকারের তখতে তাউস ছারখার হয়ে যাবে। তারা বলেন,বর্তমান সরকার অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। এই সংসদের কোন বিল জনগণ মানবে না।
সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে জনগণের ভাষা বুঝে অহিংস আন্দোলন করবে বিএনপি, সহিংস নয়। তাই তাদের ভাষা বুঝে সময় থাকতে কেটে পড়ুন। মানুষ এখন মুক্তি চায়। তিনি বলেন, ওই অহিংস আন্দোলনে জনতার ঢল নামবে, তাদের দাবি মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন।
বিচারপতিতে অভিশংসন আইন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, আইন করে সবকিছু বন্ধ করতে পারবেন না। জনগণ অধিকার আদায়ে আন্দোলন করবেই, এমনকি বিনা যুদ্ধে তারা সরে যাবে না। যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করলাম, যুদ্ধ করলাম। সেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। তিনি বলেন, দেশে কবরের শান্তি বিরাজ করছে। সব সুখ ভোগ করেছ সরকারের মন্ত্রী,এমপিরা। জনগণ রয়েছে অশান্তির মধ্যে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে দেশের মানুষের রক্ত মাখা ভাত খাবে এরা।আব্বাস বলেন, নিবার্চন হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিবার্চিত হওয়া বৈধ। কিন্তু যে নিবার্চনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি তা বৈধ হয় কী করে। যে নিবার্চন হয়েছে তা না কী কুত্তা মার্কা নির্বাচন। হরতালের জন্য মানুষের মতামত নেওয়ার দরকার নেই বলেও মন্তব্য করে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, জনগণের মনের কথা বুঝতে চেষ্টা বুঝতে চেষ্টা করুন। দেয়ালের ভাষা পড়ার চেষ্টা করুন। ভালোয় ভালোয় ক্ষমতা ছাড়ুন। জনগণের ভাষা বুঝে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নিবার্চন দিন। না হলে জনগণ ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবে।
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের ঘরে আগুন লেগেছে। তার বাঁচার আর কোনো পথ খোলা নেই। এরই মধ্যে বিচার বিভাগ অনেকটা এ সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। এখন পুরো নিয়ন্ত্রণের জন্য বিচারপতিদের ইমপিচ করার ক্ষমতা এই অনিবার্চিত অবৈধ সংসদের হাতে নেওয়ার পায়তারা করছে। রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবৈধ সংসদে যে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। তা শূরুতেই জনগণের সঙ্গে প্রতারনা করা হয়েছে। আইন মন্ত্রী বলেছেন, সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান বিচারপতিদের ইমপিচের ক্ষমতা নিজের হাতে নেন। তার এ বক্তব্য মিথ্যা।তিনি বলেন, শেখ মুজিব সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে এ ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়েছিলেন। সংবিধান রচয়িতা ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ কথা এ বিষয়ে সত্য কথা বলেছেন, জিয়াউর রহমানই সংবিধান সংশোধন করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে এ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, যদি অবৈধ সংসদে এ বিল পাস করে তাহলে দেশের মানুষ তা মানবে না। এর বিরুদ্ধে জনগণ রুখে দাঁড়াবে। দলের নেতা-কর্মীরা হামলার ভয় করে না। সরকার হামলা- মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। ক্ষমতাসীন সরকার যদি নেতা-কর্মীদের মামলা দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। তাহলে সারাদেশের ২০ দলের নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবে। কারা বরণ করে সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।
জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক তাসলীম আলম বলেন, এই সরকার অবৈধ, বিচারকদের ইমপিচমেন্ট করার কোনো অধিকার নেই।এই সরকারের পতনের জন্য এক যোগে মাঠে নামতে হবে।কারাগারে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফিট দেওয়ালে ঠেকে গেছে। জনগণ ফুসে উঠেছে। রাজপথ ছাড়া কোনো উপায় নেই।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, শুনতে পারলাম, ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি নির্বাচন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে জন্য প্রশাসন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবকিছু নিয়ন্ত্রনে আনতে একের পর এক বিতর্কিত আইন করা হচ্ছে। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো ভেল্কিভাজি আর চলবে না।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এম ওসমান ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন,সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। শরিক দলের মধ্যে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক তাসলীম আলম, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান এ্যাড. গরীবে নেওয়াজ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মুসলীম লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. জুলফিকুর চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহম্মেদ, জমিয়তে উলামার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মুহিউদ্দিন আকরাম প্রমূখ। সভা সঞ্চালনা করেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
সমাবেশে যোগ দিতে আজ বেলা আড়াইটা থেকে স্লোগানমুখর মিছিলসহ বিএনপি, ছাত্রদল, ছাত্র শিবির ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। বিকালে বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশকে ঘিরে আইনশৃংখলা বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা নেতাকর্মীদের কোন রকম বাধা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।
ইঅ/চৌফে/শ৮৪০