ওজোনস্তরের ক্ষতি কমছে

জাতিসংঘের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে, তা আগামী কয়েক দশকে পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ওজোনস্তরের ক্ষতি প্রশমনে বৈশ্বিক তৎপরতার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। খবর বিবিসি ও ইউনেপ-ডব্লিউএমওর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।

ওজোনস্তর নিয়ে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা (ইউনেপ) ও আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থার (ডব্লিউএমও) যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষাকারী ওজোনস্তরের ক্ষতি কমে আসছে।
দুই সংস্থার তত্ত্বাবধানে ৩০০ বিজ্ঞানী ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। ক্লোরোফ্লুরোকার্বন গ্যাসসহ (সিএফসি) ক্ষতিকর নানা গ্যাসের কারণে বায়ুমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ফলে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিভিন্ন অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে সরাসরি প্রবেশ করতে পারে।
ওজোনস্তর ক্ষয়কারী গ্যাসের বেশি মাত্রায় নিঃসরণ বন্ধে ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে বিশ্বের দেশগুলো চুক্তিবদ্ধ হয়। মন্ট্রিল চুক্তির পরই জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সিএফসিসহ নানা ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ রোধে কার্যক্রম হাতে নেয়। তার ফলাফল হিসেবেই ওজোনস্তরের ক্ষয় কমে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওজোনস্তরের ক্ষতি কমে আসার প্রবণতাকে ‘বড় পরিবেশগত সাফল্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ডব্লিউএমওর মহাসচিব মাইকেল জরদ। তিনি বলেন, ‘এ উন্নতি বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সাফল্য। এমন প্রচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর মতো বিরাট কাজ করতে উৎসাহিত করবে।’
এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বন্য প্রাণী এবং কৃষিরও সুরক্ষা হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এবং ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক আখিম স্টাইনার ওজোনস্তরের ক্ষয়রোধে এই সফলতাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তন রোধেও বিশ্ববাসী একই ধরনের সফলতা দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।