গ্যালারি কায়ায় মুর্তজা বশীরের চিত্র প্রদর্শনী শুরু

 
 
 
 
শিল্পী মুর্তজা বশীর বলছিলেন, আমি অসুস্থ। গত নভেম্বরে একসময়ে মনে হচ্ছিল আমি মারা যাব। মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে। এই রকম সময়ে মানুষের কি মনে পড়ে আমি জানি না। সম্ভবত, প্রিয় মানুষের মুখ মনে পড়ে। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল আমি আঁকতে চেয়েছি এমন কত ছবি আঁকা হলো না। এরপরও যখন মরলাম না, ভাবলাম প্রদর্শনীটা করেই ফেলি।
ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছোট ছেলে ও বাংলাদেশের শিল্পধারায় ‘বিমূর্ত বাস্তবতা’ ধারণার প্রবর্তক শিল্পী মুর্তজা বশীর এখন হূদরোগ ও ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত। প্রতিদিনই তাকে বাইপাস মেশিনের মাধ্যমে অক্সিজেন নিতে হচ্ছে। পালস রেট সব সময় পর্যবেক্ষণে রাখতে হচ্ছে নিয়মিত। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি এঁকেছেন ছবি। ডাক্তারের নিষেধ ছিল ছবি আঁকা যাবে না। অনেকটা বাধ্য হয়েই এঁকেছেন।
উত্তরার গ্যালারি কায়ায় আজ শুক্রবার হয়েছে শিল্পী মুর্তজা বশীরের একক চিত্র প্রদর্শনী ‘আ কালেকশন অব ড্রয়িংস, কোলাজেস অ্যান্ড অয়েল প্যাস্টেলস’ ১৯৫৪-২০১৪। এই সময়ের আঁঁকা নতুন পুরোনো কাজ থেকে বাছাই কিছু ছবি রয়েছে এ প্রদর্শনীতে। ড্রয়িং, কোলাজ আর অয়েল প্যাস্টেল আর মাত্র দুটি পেইন্টিং স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। ১৯৫৪ সালে অয়েল প্যাস্টেলে দুটো আত্মপ্রতিকৃতি আর একটা ছবি এঁকেছিলেন, এর দীর্ঘ সময় পর এ প্রদর্শনীর জন্য এঁকেছেন। নারীদের নিয়ে অনেক কাজ করেছেন এবারের প্রদর্শনীতে। বাইজেনটাইন ড্রয়িং ধারা আর কালীঘাট মিশে গেছে কাজগুলোতে। তাই নতুন পুরোনোয় বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে প্রদর্শনীটি।
মুর্তজা বশীর বললেন, মেয়েদের ছবি আঁকতে আমি ভালোবাসি। এটা বায়োলজিক্যাল ব্যাপার। শিল্পী বললেন, কিন্তু আমার বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। প্রত্যেক শিল্পীর ছবির মুখগুলো এক হয়। কিন্তু ১৬ জন মেয়ের মুখ আলাদা আমার খুব প্রিয় এই মুখগুলো, যেন আমার প্রেমিকা এরা।
এ ছাড়া প্রদর্শনী জুড়ে রয়েছে ১৬টি নারীর মুখ। নারীর কোমল হাতে ধরা পাখা কিংবা লম্বা বেণি দোলানো নারীর সাধারণ সাজের মধ্য দিয়ে। আবার পেন্সিলের সরু টানে নারীর সারল্য মুখাবয়ব কিংবা বিষাদগ্রস্ত এলোকেশি নারীর বেদনাহত দৃশ্যে।
আজ বিকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ। নিজের ছবি সম্পর্কে বলেন শিল্পী মুর্তজা বশীর। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী।
প্রদর্শনী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে আর প্রতিদিন বেলা ১১ টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
 
ইঅ/চৌফে/শ৩৩০