চার্জশিট চূড়ান্ত

রানা প্লাজা ধস: ১৩ সরকারি কর্মকর্তাসহ অভিযুক্ত ৪৯

 
 
 
 
 
 
দেড় বছর তদন্ত শেষে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। দুইটি মামলায় ৫৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় সাভারের সরকারি চারটি প্রতিষ্ঠানের কাজে চরম অবহেলা পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। এই চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৩ কর্মকর্তাকে আসামী করা হচ্ছে। এই ১৩ জন কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সিআইডি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে শ্রম মন্ত্রণালয়, রাজউক, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চিঠির কোনো জবাব পায়নি। তাই তদন্তের কাজ শেষ হলেও ঐ চিঠির জবাব না পেলে চার্জশিট দিতে পারছে না সিআইডি।
এ ব্যাপারে মামলা দুইটি তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর বলেন, পুলিশের দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় ৪২ ও রাজউকের ইমারত আইনের মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট তৈরির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা হচ্ছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সাভারের পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কমিশনার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম রাসেল, সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম। এদের মধ্যে পৌর মেয়র ও কমিশনার এই মামলায় জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে। শুধু ফারজানা ইসলাম বিদেশে ছুটিতে আছেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত কল-কারখানা অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক বেলায়েত হোসেন ও মাহমুদ জামশেদুর রহমান এবং উপ মহাপরির্শদক শহিদুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী। অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবির হোসেন সরকার, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়। তিনি এখন মুন্সিগঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। একই কারণে অভিযুক্ত হচ্ছেন রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সাভার উপজেলার ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রানা প্লাজা নির্মাণে নিম্নমানের ইট-সুরকি ব্যবহার করায় ভীত অনেক দুর্বল ছিল। তাছাড়া ছয়তলা বাণিজ্যিক ভবন তৈরির অনুমোদন নিয়ে তা নয়তলা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে ঐ নয়তলা বাণিজ্যিক ভবনটিতে গার্মেন্টস স্থাপন করা হয়। এতে দুর্বল কাঠামোকে আরও দুর্বল করে দেয়। ঘটনার আগের দিন ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ভবন ও পোশাক মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।
ভবন ধসের পর সাভার থানায় এসআই ওয়ালী আশরাফ খান বাদী হয়ে দন্ডবিধি ৩০৪ (ক) (অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু) ধারায় দায়ের করা মামলা এবং রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল আহম্মেদ বাদী হয়ে ইমারত আইনে দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা হচ্ছেন রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও তার বাবা আবদুল খালেক এবং ঐ ভবনের পোশাক কারখানার পাঁচ মালিক আমিনুল ইসলাম, বজলুল সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস, ডেভিড মেয়র রেকো ও আনিছুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান। এছাড়া রানার আশ্রয়দাতা আবুল হাসান, সহযোগী শাহ আলম মিঠু, অনিল কুমার ও হাসানসহ ৪৯ জন।
 
ইঅ/চৌফে/শ৪২১