এক এগারোর হোতারা রাজনীতি বিহীন রাষ্ট্র চেয়েছিল: মওদুদ

 
ওয়ান ইলিভেনের হোতারা রাজনীতিবিদ বিহীন রাষ্ট্র চেয়েছিল। জরুরি আইন জারির লক্ষ্যই ছিল রাজনীতিবিদ ও তাদের পরিবারকে ধবংস করা। এটা করতে না পারলেও আমাদের অর্থনীতির ভীত ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে তারা ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। একইসঙ্গে সার্বভৌমত্বের তাত্ত্বিক ভিত্তিকে দুর্বল করে এমন অবস্থায় নিয়ে আসা যাতে এ দেশ কোন দিন আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ওয়ান ইলিভেনের দু’বছরের সেই চিত্রই তুলে ধরেছেন।
শনিবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রচিত ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি এন্ড দ্যা আফটারমাথ (২০০৭-২০০৮)’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরো বলেন, ওয়ান ইলিভেনে ক্ষমতা দখলের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোন সম্পর্ক ছিল না। এটা ছিল সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমদসহ গুটিকয়েক ব্যক্তির ক্ষমতা দখলের অভিলাস। মইন নিজে রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন।
সকাল সাড়ে ১০ টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাপ্তাহিক ইকনোমিক টাইমস। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জোর পূর্বক ক্ষমতা দখল করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রবীন আইনজীবী ব্যারিষ্টার রফিক-উল হক বলেন, মওদুদ আহমেদ বেষ্ট ল’য়ার ইন দ্যা কান্ট্রি, শীর্ষ রাজনীতিবিদ, খ্যাতিমান লেখক, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও জুরিস। জুডিশিয়াল ইতিহাসে তার বইটি মাইল ফলক হিসাবে থাকবে। বইটি ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাজে আসবে। তিনি তার বইটিতে অনেক কথা বলেছেন। আমার সম্পর্কেও বলেছেন।
সুপ্রীমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট মাহবুব হোসেন বলেন, মওদুদ আহমদ একাধারে আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি একজন সাহসী মানুষ। তবে সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে অতীতে আমরা যে ভুলগুলো করেছি। মওদুদ আহমদও আগামীতে ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবেন, আশা করছি আমরা যে সেই ভুলগুলো আর করবো না।
বইয়ের লেখক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বই লেখা কঠিন কাজ। সত্য কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় নিজেকেও দোষী সব্যস্ত করতে হয়। সত্য লেখা কঠিন।  তবে ইতিহাস লেখা যেন আমরা ভুলে না যাই। বাংলাদেশে এখন মুক্ত চিন্তার বিকাশ সংকুচিত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, মওদুদ আহমেদ ১৩টি বই লিখেছেন। একজন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী হিসাবে কারোর পক্ষে সম্ভব নয়।
নিউজ টুডে’র সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, জরুরি অবস্থায় মওদুদ আহমেদ যে পরিমান নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা বইটিতে বর্ণনা করেছেন। মইন ইউ আহমেদ সিন্দাবাদের দ্বৈতের মত এ জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছিলেন। তিনি ভারত সফরে গিয়ে ঘোড়া উপহার পেয়েছিলেন।
নিউ এইজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, বিচারপতিদের বয়স বাড়ানোর সময় আইনমন্ত্রী ছিলেন মওদুদ আহমেদ। বলা হয় তিনি নিজ উদ্যোগে নাকি বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়েছেন। তিনি  যদি এটি করে থাকেন তাহলে কেন সেটি করা হয়েছিল তা ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন। তার বইটি ওয়ান ইলিভেনের ইতিহাসের উপাদান হিসাবে ব্যবহূত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বইটির উপর আলোচনায় অংশ নেন-প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।