শিক্ষক বাসে হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে চবি ক্যাম্পাসে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। অভিযানের তৃতীয় দিনে গতকাল শনিবার শাহ আমানত হল সংলগ্ন শিবির নিয়ন্ত্রিত মেস থেকে একটি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় দীপ মঞ্জিল নামের ওই মেসে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তালা ভেঙে মেসে প্রবেশ করে। এসময় পেট্রোল বোমা ছাড়াও ইসলামী সঙ্গীতের ক্যাসেট, ২০টি লাঠি এবং চারটি ব্যাগের মধ্যে ২০০ টুকরা পাথর উদ্ধার করে। এছাড়া পুলিশ শনিবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে শিবিরের বায়তুল মাল সম্পাদক ইমাম হোসেন ও সাথী মোস্তফা কামালসহ তিনজনকে আটক করে।
শিক্ষক বাসে হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত মোট ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ইত্তেফাককে জানান। এর মধ্যে ১৫ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দু’জন হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা শিকার করেছে। এছাড়া অপর দু’জনের কাছ থেকে সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে ওসি জানান।
এদিকে শিক্ষক বাসে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বানে গতকাল এক ঘণ্টা প্রতীক কর্মবিরতি পালন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচী চলাকালে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস বন্ধ থাকে। বাসে হামলার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সমাবেশ থেকে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন এক ঘন্টা কর্মবিরতি এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সমাবেশের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। তবে সমাবেশের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ১৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. বেণু কুমার দে গতকাল ইত্তেফাককে জানান। তিনি বলেন, বড় ধরনের কর্মসূচীর জন্য আমাদের সাধারণ সভার অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে। তাই ১৭ সেপ্টেম্বর সমাবেশের পরিবর্তে সাধারণ সভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত বুধবার হাটহাজারী উপজেলার ছড়ারকূল এলাকায় শিক্ষক বাসে ককটেল হামলা চালায় শিবির। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষকসহ ১৬ জন আহত হন। এ ঘটনায় শিবির নেতাকর্মীসহ ৭০ জনকে আসামী করে হাটহাজারী থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়।
এদিকে আজ রবিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন, সিন্ডিকেট, অ্যাকাডেমিক ও ফাইন্যান্স কমিটির নির্বাচনের দিন নির্ধারিত থাকলেও গতকাল শনিবার নগরীর চারুকলা ইনস্টিটিউটে আগাম ভোট গ্রহণ করা হয়। কড়া পুলিশ প্রহরায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. বেণু কুমার দে ইত্তেফাককে বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে এবারই প্রথম নগরীতে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, গত বুধবার শিক্ষক বাসে হামলার কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ভোট দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া বাসে ককটেল হামলার কারণে অনেকের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক কাজ করছে। মূলত তাদের কথা বিবেচনা করেই শহরে আগাম ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকে অসুস্থ শরীর নিয়েই অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। গতকাল প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ইত্তেফাককে জানিয়েছেন।