জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে আসামি পক্ষ। আজ রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ একই সঙ্গে আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে এবং নির্যাতনের শিকার এক সাক্ষীর ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ অনুসারে আসামিকে ক্ষতিপূরণের সাজা দেয়া সম্ভব নয়। আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ হয়নি বলেও যুক্তিতর্কে দাবি করেন তিনি। আইনি বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।
সিরাজুল, আবদুল লতিফ ও আকরামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল:
এ দিকে, বাগেরহাটের সিরাজুল হক, আবদুল লতিফ তালুকদার ও খান মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতা-বিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যাসহ মানবতা-বিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সিরাজুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ সায়েদুল হক ও শেখ মোশফেক কবীর। অভিযোগের সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, দালিলিক তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেয়া হয়।
সায়েদুল হক বলেন, সিরাজুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে শুধু সিরাজুল হকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দুটি অভিযোগে যৌথভাবে লতিফ তালুকদার ও আকরাম হোসেনের সংশ্লিষ্টতা ও বাকি দুটি অভিযোগে তিনজনেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ে জমা দেয়।
সিরাজুল হকসহ তিন আসামিই এখন কারাগারে আছেন। গত ১০ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই রাতেই আবদুল লতিফ বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার হন। আকরাম হোসেন এলাকা ছেড়ে পালালেও ২০ জুন তাঁকে রাজশাহী থেকে গ্রেফতার করা হয়। আর আত্মগোপনে থাকা সিরাজুল হক ২১ জুলাই বাগেরহাট সদর থানার ডেমা গ্রাম থেকে গ্রেফতার হন।