সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

মন্ত্রিসভায় থাকবে জাপা

 


পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাপা মন্ত্রিসভায় থাকবে। রবিবার বিকেলে সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।


দুপুর দুইটায় সংসদীয় দলের বৈঠক বসার কথা থাকলেও তা শুরু হয় বিকেল প্রায় পৌনে চারটার দিকে। পাঁচটার কয়েক মিনিট পর বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আমাদের দলে কোনো বিভক্তি বা গ্রুপিং নেই। জাপা এক ও ঐক্যবদ্ধ।
তিনি জানান, বৈঠকে চারটি বিষয়ে কথা হয়েছে। প্রথমত: কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধী দলীয় উপনেতা করার বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রওশন এরশাদ যে চিঠি দিয়েছেন, সেই বিষয়ে এই বৈঠকে বলা হয়েছে- এ ব্যাপারে আগের সংসদীয় দলের বৈঠকের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। অর্থাৎ কাজী ফিরোজ রশীদকেই জাপা বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচিত করেছে।
দ্বিতীয়ত: বৈঠকে বলা হয়েছে- দলের চেয়ারম্যান (এরশাদ) একক ক্ষমতায় প্রেসিডিয়াম থেকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে বাদ দিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক চেয়ারম্যান এটি করতে পারেন। তবে তাদের দু’জনের কোনো ভুল থাকলে তা ক্ষমা করে প্রেসিডিয়াম থেকে অব্যাহতির বিষয়টি যেন প্রত্যাহার করা হয়, সেজন্য বৈঠকে সবাই একমত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সংষদীয় দলের প্রধান রওশনকে অনুরোধ করা হয়েছে, তিনি যেন এরশাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
আর তৃতীয়ত: গতকালের বৈঠকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিরোধী দল বিলটিতে সমর্থন দেবে। তবে বিলটির ওপর সংসদে উত্থাপিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন দলীয় ফোরামে পুঙ্খানুপুঙ্কভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর চতুর্থ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা হলো- মন্ত্রিসভা থেকে জাপার বের হয়ে আসা না আসা প্রসঙ্গে।
বৈঠকে সবাই একমত হন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাপা আপাতত মন্ত্রিসভায় থাকবে। এরশাদসহ কয়েক এমপি কেন বৈঠকে আসেননি, এই প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।


বৈঠকে ছিলেন না দলের চেয়ারম্যান এরশাদ
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ দলীয় অন্তত ১৭ জন সংসদ সদস্য নিজেদের সংসদীয় দলের বৈঠকে যাননি। সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় বিরোধী দলের সভাকক্ষে যখন রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের বৈঠক চলছিল, তখন দলের মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলুসহ ১০-১২ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে বসে পৃথক বৈঠক করছিলেন এরশাদ।
সংসদ অধিবেশনে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় এরশাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি পার্টির চেয়ারম্যান। পার্লামেন্টার পার্টির বৈঠক ডাকতে হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমার অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু আমার অনুমতি নেয়া হয়নি। বৈঠকের বিষয়ে আমাকে আগে জানানোও হয়নি।’
তবে এরশাদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিগত স্টাফ ইত্তেফাককে জানান, এরশাদ নাকি বলেছেন ‘রাঙ্গা আমাকে ওইদিন (বৃহস্পতিবার) সংসদ লবিতে এভাবে গালাগাল করল, আমি এখন কীভাবে ওই বৈঠকে যাই।’