পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি নিহতদের মেয়ে ঐশী ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে সাতজন সাক্ষি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এনিয়ে অভিযোগপত্রভুক্ত ৪৯ জনের মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হলো।
সাক্ষিরা হলেন, মো.আবদুল মোতালেব (দারোয়ান), ডা.আলী মনসুর, ইমাম আলী শেখ, মো. তসলিম উদ্দিন (পুলিশ কনেস্টেবল), মো.মজিবুর রহমান (পুলিশ কনেস্টেবল), সোলেমান ও রবিউল আলম।
সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো: জহরুল হক এ সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ জন্য আগামি ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।
সাক্ষিদের জবানবন্দি গ্রহন শেষে ঐশীর আইনজীবী প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস, ফারুক আহমেদ এবং মাহবুব হাসান রানা সাক্ষিদের জেরা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের পিপি শাহ আলম তালুকদার।
সাক্ষ্যগগ্রহণের সময় এ মামলার আসামি ঐশী রহমান, আসাদুজ্জামান জনি ও মিজানুর রহমান রনি আদালতে হাজির ছিল। তাদেরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের ৬ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত এসবি দম্পতির বাসার কাজের মেয়ে সুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় কিশোর আদালতে বিচার চলছে। ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ২০ মে সুমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে জামিন দেন। গত ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিনে মুক্তি পায়।
এর আগে গত ৯ মার্চ মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (পুর্ব) এর পরিদর্শক মো: আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রের একটিতে ঐশী, জনি ও রনিকে অন্তভূক্ত করা হয়। কাজের মেয়ে সুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে ঐশীর বিরুদ্ধে মা-বাবাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা, আলামত গোপন, আলামত নষ্ট, চুরি ও বাবা-মাকে হত্যার জন্য বিষ প্রয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঐশীর কাছে পাওয়া গয়না এবং বাসায় খুলে রেখে যাওয়া তার রক্তমাখা পোশাকে পাওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত বছরের ২৪ আগষ্ট ঐশী আদালতে পিতা মাতার হত্যার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়।
গৃহকর্মী সুমির বিরুদ্ধে তার সামনে কফিতে ঘুমের ওষুধ মেশানোর পরও তা মাহফুজুর ও স্বপ্না রহমানকে না জানানো কিংবা ঘটনার সময় ডাক চিত্কার না দেওয়া এবং লাশ গোপনে সহায়তার অভিযোগ করা হয়েছে।
আসামি জনির বিরুদ্ধে ঘটনায় নেপথ্যে থেকে ঐশীর বাবা-মাকে হত্যার প্ররোচনা দেয়া এবং ঐশীকে দুবাই পাঠানোর প্রলোভন দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া খুনের ঘটনা জেনেও রনির বিরুদ্ধে ঐশীকে তার দুঃসম্পর্কীয় খালা কুলছুমের বাসায় আশ্রয় করে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ৫৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আর ৮টি জব্দ তালিকামূলে ৮২ প্রকার আলামত জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৬ আগষ্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হবার পর রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যায় ঐশী। পরেরদিন ১৭ আগষ্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোটভাই মো. মশিহুর রহমান রুবেল বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একইদিন রমনা থানায় নিজেই আত্মসমর্পণ করেন ঐশী।