পুলিশের ওপর হামলা মামলার অভিযোগপত্রে আ. লীগের নেতাদের নাম বাদ

গত বছর কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া একটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ৩ সেপ্টেম্বর পেশ করা অভিযোগপত্রটিতে ওই মামলার এজাহারে থাকা ছাত্র ও যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাদ দিয়ে কেবল বিএনপির নেতা-কর্মীদের নাম দিয়েছে পুলিশ। এমনকি ঘটনার সময় বিদেশে থাকা বিএনপির এক সমর্থকের বিরুদ্ধেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২১ মার্চ উপজেলার জারুইতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পরদিন নিকলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরুণ কুমার বসাক বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১১ সাল থেকে দুবাই প্রবাসী বিএনপির সমর্থক মামুন মিয়া ও উপজেলা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক রিগেন মিয়া, জারুইতলা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সামসুদ্দিনসহ বিএনপির ১৯ নেতা-কর্মীর নামে পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। আর এজাহারে নাম থাকলেও উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আল আমিন, উপজেলা যুবলীগের কর্মী আক্তার হোসেন ও জারুইতলা ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বাক্কার এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক সাদির, হারিছ, চাঁন ও আশু মিয়ার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। জারুইতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাতেন মিয়া তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
জারুইতলা ইউপির চেয়ারম্যান মো. রইছউদ্দিন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় সাংসদ আফজাল হোসেনের উপস্থিতিতে নিকলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বসে আপস-মীমাংসা হয়। মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের বাদ দিয়ে কেবল বিএনপির লোকদের নামেই অভিযোগপত্র দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সাংসদ আফজাল হোসেন জানান, তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আপস করে দিয়েছিলেন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও চিকিৎসা বাবদ জরিমানার এক লাখ টাকাও তিনি নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের হাতে দিয়েছেন। মামলাটির অভিযোগপত্র যাতে না দেওয়া হয় সে চেষ্টাও করা হয়েছে।
তবে ওসি মাহবুব আলম সাংসদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘কে বিএনপি আর কে আওয়ামী লীগ আমরা জানি না। তদন্ত করে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তাদের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।’ বিদেশে থাকা বিএনপির সমর্থক মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুল করে এমনটি হয়েছে।
অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জামালউদ্দিন জানান, মামলাটির অভিযোগপত্র দেওয়া হবে, না চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) যাবে এ নিয়ে আলোচনা ছিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপস হওয়ার কথাও শুনেছেন। তবে তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে তা বলতে পারছেন না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিকলী থানার উপপরিদর্শক আবুল কাশেম বলেন, ‘তদন্ত করে যা পেয়েছি চার্জশিটে তা-ই দিয়েছি।’