বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটকে সকলের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখা হবে না কি বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য আলাদা করে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করা হবে, সেই বিতর্কে প্রযুক্তিবিশ্বের অবস্থান সকলের জন্য সমান সুবিধাযুক্ত উন্মুক্ত ইন্টারনেটের পক্ষে।
ইন্টারনেট বিষয়ক মার্কিন রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) মাস চারেক আগে ইন্টারনেটকে বিভিন্ন শ্রেণী-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা আলাদা সুবিধা প্রদানের পক্ষে এক প্রস্তাবনা রাখে। তাদের দাবি ছিল, বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অধিক পরিমাণ কাজের জন্য তুলনামূলক উচ্চগতির ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়। আর সে কারণেই এই ধরনের প্রতিষ্ঠান যাতে চাইলেই অনেক বেশি গতির ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পেতে পারে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল তারা। বিভিন্ন দেশে যেমন রাস্তায় গাড়ি চলাচলে ভিআইপিদের জন্য বিশেষ লেন থাকে, ইন্টারনেটকেও তারা ঠিক সেভাবেই পরিচালনা করতে চেয়েছিল।
তবে এই প্রস্তাবনা শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়ে। সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তো বটেই, খোদ ইন্টারনেটের জনক টিম বার্নস লি-ও এই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন। মূলত ইন্টারনেটের উন্মুক্ত মডেলের কারণেই এটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুফল বয়ে নিয়ে এসেছে কোটি কোটি মানুষের কাছে। ইন্টারনেটের এই মডেলকে বদলে এর সুবিধাকে সংকুচিত করলে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না বলেই মন্তব্য ছিল টিম বার্নস লি’র। শীর্ষস্থানীয় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এই প্রস্তাবনার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
প্রবল এই সমালোচনার মুখে প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের আগে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণের সুযোগ দেয় এফসিসি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ছিল এই বিষয়ে মন্তব্য প্রদানের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে এফসিসির কাছে প্রায় ৩০ লক্ষ মন্তব্য জমা হয়। জানা গেছে, এসব মন্তব্যের বেশিরভাগই উন্মুক্ত ইন্টারনেটের পক্ষে। ফলে এফসিসিকে তাদের প্রস্তাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই বিষয়ে এফসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।