বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা পেল সংসদ



অবশেষে বহুল আলোচিত ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল, ২০১৪’ পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস হয়। এর ফলে ১৯৭৫ সালের পর পুনরায় বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরে পেল জাতীয় সংসদ।
বুধবার জাতীয় সংসদে গোপন বুথে সরাসরি ব্যালটে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভোট গ্রহণ করা হয়। বিলের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়ায় বিলটি পাস হয়।
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ছিলো জাতীয় সংসদের হাতে। কিন্তু ওই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেনি সংসদ। কেননা ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদে বিচারকদের অপসারণে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি নির্ধারণে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা ছিলো। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর আগ পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সংসদ এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করতে পারেনি। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সরাসরি রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে চতুর্থ সংশোধনী বাতিল করা হলে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়।
পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করলেও ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি’ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে শ্রেয়তর—এই অভিমত দিয়ে সেটি রেখে দেয়। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আইন কমিশন বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার সুপারিশ করে। এর ধারাবাহিকতায় আইনমন্ত্রী সংসদে সংবিধান সংশোধন বিলটি উত্থাপন করেন।