বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাঈমুল হত্যাকাণ্ড

ছাত্রলীগ নেতার হুমকির রেকর্ড উদ্ধার

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে গত ১৪ জুলাই দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নাঈমুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নাঈমুল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নাঈমুলের মামা রফিকুল ইসলাম ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় আনোয়ার হোসেনসহ ছয় নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও শামীম হাসানকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দুই মাসেও পুলিশ আসামিদের আটক করতে পারেনি। ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিঅইডি) স্থানান্তর করা হয়েছে।

সম্প্রতি নাঈমুল ইসলাম ওরফে রিয়াদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওরফে বিপুলের মধ্যকার ফোনালাপের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফোনালাপে আনোয়ার নাঈমুলকে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেন। ক্যাম্পাস না ছাড়লে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
আনোয়ার-নাঈমুলের ফোনালাপ
আনোয়ার: আমি বলছি, তোমাদের সবগুলোরে হাড়হাড্ডি ভাঙ্গে সব বাড়ি পাঠায় দিবানে ঠিক আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সাধ কিন্তু মিটায় দিবানে। ...সোহাগ ভাই-নাজমুল ভাই (ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) কমিটি দেয় সেই কমিটি তুরা মানিসনে। তোদের এত বড় সাহস দ্যায় কিডারে...।
নাঈমুল: ভাই আমরা মানি, কিন্তু এই যে সভাপতি সেক্রেটারি...
আনোয়ার: ...এই, আমি যেইডা বলি সেইডা শোন। তুই কোনো কথা বলবি না। তুই শুধু শুনবি। তোদের ভিসি তোদের ঠেকাতি পারবে? তোদের ভিসির চিয়ার থাকবে। ফাইজলামি পাইছ তায় না। কালকির থেকে হল ছাইড়ি দিবি। যত দিন আমি তোরে না বলব তত দিন পর্যন্ত তুই ক্যাম্পাসে আসবি না। কালকে হল ছাড়ে দিয়ে তুই চলে যাবি। আমি যেন দেখি তুই বাড়ি চলে গিছিস। তা না হলি তুই কিন্তু হসপিটালে ভর্তি হবি। আমি তোর স্টিট বলে দিলাম।
ছাত্রলীগের নেতা আনোয়ার হোসেন অবশ্য ফোনালাপে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই কণ্ঠ আমার নয়। কেউ আমার কণ্ঠ নকল করে রেকর্ডটি বাজারে ছাড়তে পারে।’
এদিকে রিয়াদের বাবা কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রেকর্ডে আনোয়ারের সঙ্গে যার কণ্ঠ রয়েছে সেটি আমার ছেলের। হত্যার আগে আনোয়ার আমার ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ওই ফোনালাপটি নাঈমুল রেকর্ড করে রেখেছিল। তার ফোন থেকেই ওই রেকর্ডটি উদ্ধার করা হয়েছে।’
সিআইডির যশোর কার্যালয়ের উপপরিদর্শক হারুণ-অর-রসুল বলেন, ‘কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনো সেটি হাতে পাইনি।’