তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমরা যখন শিশু শ্রম কমিয়ে আনছি তখন জঙ্গিবাদীরা শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিশুদের মানবঢাল, অস্ত্রবহন, বোমা মারার কাজে ব্যবহার করছে। এই ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে শিশুর সুরক্ষা মানে ভবিষ্যতকে সুরক্ষা করা। জৈবিক-মানসিক-আবেগীয় উন্নয়নের মধ্য দিয়ে শিশুকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার শিশু সুরক্ষায় সেরা প্রতিবেদন নির্বাচন ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। বিকালে রাজধানীর একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং ওই পত্রিকাটি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর চন্দন জেড গোমেজ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের পরিচয় সংকট থেকে উত্তোরণ করেছিলাম। কিন্তু পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্টের মধ্য দিয়ে আবার আমাদের পরিচয়কে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা মানুষ এবং বাঙালি।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বলেন, ‘শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত্’ এটা আমাদের সর্বাধিক ব্যবহূত বাক্য। কিন্তু কাজে তা নেই। যাদের আমরা ‘ভবিষ্যত্’ বলি তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য আমারা নিশ্চিত করতে পারছি না, যা শিশুদের জন্য অনেক বেশি জরুরি। শিশুদের মধ্যে আমরা যথেষ্ট দেশপ্রেম সঞ্চরিত করতে পারি নাই। শিশু সাতিহ্য এবং শিশুসাহিত্যিক তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। বাংলা ভাষাকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে— এই মানসিকতা আমাদের শিশুদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের গল্প এবং শিশুদের মনকে ভালোর দিকে ধাবিত করবে— এমন কিছু তাদের শেখানো দরকার।
পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। দৈনিক ইত্তেফাকের মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ প্রথম পুরস্কার, যুগান্তরের শিপন হাবীব দ্বিতীয় পুরস্কার এবং ভোরের কাগজের ঝর্ণামনি তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীরা পান ক্রেষ্ট, সার্টিফিকেট ও ৫০, ৩০ ও ২০ হাজার টাকার চেক।
উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বরে ওয়ার্ল্ডভিশন এবং ওই পত্রিকাটির যৌথ উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে দুই দিনের একটি কর্মশালার আয়োজন করে। মোট ৩০টি প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ওই ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শিশুদের নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন থেকে সেরা প্রতিবেদন বাছাই করা হয়। সেখান থেকে তিনজন পান সেরা প্রতিবেদনের পুরস্কার।