রাজধানীর কামালবাগসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে বস্তা থেকে জীবিত উদ্ধার করা যুবক মো. সোহেল (২৩) গতকাল শুক্রবারও অচেতন ছিলেন। তবে মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে চিকিৎসাধীন সোহেলের স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করে লাশ ঘুমের চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন তিনি।
সোহেলকে কারা গুরুতর আহত অবস্থায় বস্তায় ভরে নদীতে ফেলল, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল পুলিশ তাঁর কোনো খোঁজ নেয়নি।
সোহেলকে গত বৃহস্পতিবার সকালে চকবাজার থানার কামালবাগসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসমান বস্তা থেকে জীবিত উদ্ধার করেন চকবাজার থানার লালবাগ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমান। পরে তাঁকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এএসআই মিজানুর গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর তিনি বিষয়টি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। ওই যুবককে উদ্ধারের স্থান সম্ভবত ডিএমপি এলাকায় পড়েছে।’ এ ব্যাপারে চকবাজার থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, ওই যুবক এখনো অচেতন। চেতনা ফিরলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে সীমানা নির্ধারণ করা যাবে।
সোহেলের স্বজনেরা জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমিনপাড়ায় একটি মেসে তিনি থাকতেন। আগে রাজধানীর বাদামতলীতে ফলের আড়তে চাকরি করতেন। পাঁচ-ছয় মাস ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন। আমিনপাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অধীন। যোগাযোগ করা হলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।
গতকাল দুপুরে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সোহেলের শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। তাঁর ভগ্নিপতি মো. মোস্তফা অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা সোহেলকে মেরে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। গতকাল পুলিশ তাঁর খোঁজখবর নেয়নি।