প্রায় দেরিতে খাবার: বন্দীদের অসন্তোষ

গ্যাস-সংকটের কারণে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সময়মতো খাবার পাচ্ছেন না বন্দীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বন্দীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কারা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস–সংকট নিরসনের জন্য তারা কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডকে (কেজিডিসিএল) পাঁচ দফায় চিঠি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সর্বশেষ চিঠি দেওয়া হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

৯ সেপ্টেম্বর কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) বরাবর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়কের লেখা চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে কারাগারের অভ্যন্তরে রান্নাঘরের চুলায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম, যা দিয়ে সময়মতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, বন্দীদের কাছে যথাসময়ে খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বন্দীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। যেকোনো সময় কারা প্রশাসনকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে চার হাজার ৫০০ বন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন দুর্ধর্ষ বন্দী। দুর্ধর্ষ বন্দীদের মধ্যে জেএমবির সামরিক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ, শিবির ক্যাডার নাছির উদ্দিন, সন্ত্রাসী তছলিম উদ্দিন, দীপক দত্ত, শামীম, সরোয়ার, ম্যাক্সন প্রমুখ রয়েছেন। এ ছাড়া ফাঁসির আসামি, যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী ও ডাকাত এবং বিএনপি–জামায়াতের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন কারাগারে। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ পেলেই কিছু বন্দী কারাগারে সাধারণ বন্দীদের উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। গ্যাস–সংকটের কারণে খাবার পেতে দেরি হওয়াকে পুঁজি করছেন দুর্ধর্ষ বন্দীরা।
কারাগারে প্রত্যেক বন্দীকে সকালে রুটি, দুপুর ও রাতে ভাত দেওয়া হয়। কারাগারে বর্তমানে দুটি চৌকি (রান্নার চুলা) রয়েছে। এসব কাজ করে থাকেন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার মধ্যে তাঁদের লকআপ (তালাবদ্ধ) করা হয়। এ জন্য সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে সারতে হয় রান্নার কাজ। তা ছাড়া বন্দীদের রাতের খাবারও বিকেলের মধ্যে দিয়ে দিতে হয়। দিনের বেলা রান্না করতে গেলেও গ্যাসের চাপ থাকে অত্যন্ত কম। মিটিমিটি করে চুলা জ্বলে। এ কারণে রান্না করা যায় না। এ জন্য বাধ্য হয়ে লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হয়। তাই যথাসময়ে কারাগারের বন্দীদের কাছে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষকে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. ছগির মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, গ্যাস–সংকট নিরসনের জন্য বারবার কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কারাগারে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম। এ কারণে বন্দীদের খাবার সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যথাসময়ে খাবার না পেয়ে বন্দীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কেজিডিএলসির বক্তব্য জানতে মহাব্যবস্থাপকের (বিপণন) মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি আরেক মহাব্যবস্থাপকের (বিতরণ) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উপমহাব্যবস্থাপকের (রক্ষণাবেক্ষণ) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আর উপমহাব্যবস্থাপক বলেন, তিনি কিছু বলতে পারবেন না।