বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ২০ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির আশাবাদ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক খবর উঠে আসলেও এক্ষত্রে সুখবর দিয়েছে বিশ্বের নামকরা ব্যাংক হংকং সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি)। ব্যাংকটি তাদের এক রিপোর্টে বলেছে, ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তিন দশমিক আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। ইউরোপের দেশগুলোসহ যুক্তরাষ্ট্র এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এসময় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়বে। এইচএসবিসি তাদের   রিপোর্টে বলেছে, চলতি ২০১৪ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিলো ১১ দশমিক সাত শতাংশ। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের ৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক– উল্লেখ করে ব্যাংকটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পণ্যটি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে এগিয়ে আছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপের দেশগুলোতে এবং ২৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানি করে এমন ২৫টি দেশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এইচএসবিসি বলেছে, গত কয়েক বছর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে দুই দশমিক আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ২০২০ সাল নাগাদ এ প্রবৃদ্ধি তিন দশমিক আট শতাংশে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের দেশগুলোর পোশাক আমদানি ক্রমাগত বাড়ার কারণে এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে ব্যাংকটি মনে করছে। এছাড়া ব্যাংকের পক্ষ থেকে কন্টেইনার স্থানান্তরের বিষয়টিও আমলে নেয়া হয়েছে। এছাড়া অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ার কারণেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এইচএসবিসির মতে, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি সামপ্রতিক সময়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ২০৩০ সাল নাগাদ এ ধারা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট আমদানির ২০ শতাংশ আসে গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল খাতে। শুধু ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ভৌগলিক নৈকট্যের কারণে চীন, ভারত, কোরিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায়ও যাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাকের সামপ্রতিক চাহিদা বিশ্লেষণ করে এইচএসবিসি বলেছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে, ২০২০ সাল নাগাদ চীন থেকে বাংলাদেশ আরো বেশি পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে মোট আমদানির ২০ শতাংশ চীন থেকে আসলেও ২০২০ সাল নাগাদ তা ৩০ শতাংশে পৌছানোর কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামনের দিনগুলোতে বাড়বে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছে এইচএসবিসি। ব্যাংকটির মতে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এতে রপ্তানিকারকদের ওপর বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে। কারখানার পরিবেশ উন্নত হবার কারণে উত্পাদনও বাড়বে। সামপ্রতিক সময়ে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ৭৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, উত্পাদনের সাথে বাড়তি এ খরচ যোগ  হবে এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। তবে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে শ্রমিকদের উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। রিপোর্টে বলা হয়, বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার পর গার্মেন্টস কারখানাগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়েছে– এটি ক্রেতাদের আস্থা বাড়াবে বলে এইচএসবিসি মনে করে।